সেই কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

আপডেট: 04:14:41 11/07/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে স্বীকৃতি দিতে রাজি না হওয়ায় আটক সেই কথিত প্রেমিক ইসরাফিল হোসেনের (১৮) বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা স্কুলপড়ুয়া কিশোরী (১৫) বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা করে।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে খেদাপাড়া ক্যাম্প পুলিশ ইসরাফিলকে ছোট সালামতপুরের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। মঙ্গলবার বিকেলে আটক ইসরাফিলকে থানায় আনা হয়। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে হেফাজতে নিয়ে বুধবার জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাকেও আদালতে হাজির করেছে পুলিশ।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘মেয়েটি জানিয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ছলে ইসরাফিল তাকে ধর্ষণ করেছে। ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।’
এই ঘটনায় ইসাফিলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ইসরাফিল গ্রেফতার আছে বলে জানান ওসি মোকাররম।
এদিকে, পুলিশের একটি সূত্র বলছে, যেহেতু মেয়েটি পাঁচ মাস অন্তঃসত্ত্বা, এই সময় মেডিকেল করানো হলে সন্তান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তার মেডিকেল করানো যাবে না। এই সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তার ডিএনএ টেস্ট করাতে হবে। একই সময়ে ইসরাফিলের ডিএনএ করিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে এই সন্তানের জনক ইসরাফিল কিনা।
প্রসঙ্গত, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মণিরামপুরের ছোট সালামতপুরের হায়দার আলী খাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলে ইসরাফিল তার চাচাতো বোন নবম শ্রেণিপড়ুয়া ১৫ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত দেড় বছর ধরে তাদের সম্পর্ক চলে আসছে। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। তখন কেশবপুরে একটি ক্লিনিকে ওই সন্তান নষ্ট করায় ইসরাফিল। কিন্তু তাদের অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। ফলে দ্বিতীয় দফা অন্তঃসত্ত্বা হয় মেয়েটি।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হলে রোহিতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনছার আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের পক্ষ নেন। এরপর থেকে ওই কিশোরীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমি আক্তার ও পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও ওবায়দুর রহমান। তিনি দুই পক্ষের সাথে কথা বলে ছেলে পক্ষকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেন। কোনো সমঝোতা না হওয়ায় রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশ ইসরাফিলকে আটক করে।
আটকের পর থেকে মঙ্গলবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত ইসরাফিলকে খেদাপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে রাখা হয়। সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষের কারণে শেষপর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ায় বিকেলে ইসরাফিলকে থানায় আনা হয়

আরও পড়ুন