সেই মনোয়ারা ক্লিনিক সিলগালা

আপডেট: 02:48:29 20/04/2019



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাসহ নানা অভিযোগে মণিরামপুরে মনোয়ারা ক্লিনিক নামে একটি বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছেন প্রশাসন।
গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েমা হাসান পুলিশ নিয়ে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন। মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শুভ্রারানী দেবনাথ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে গত ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করানোয় ওই ক্লিনিকে উপজেলার জয়পুর গ্রামের সামছুন্নাহার নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় প্রসূতির স্বামী আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ক্লিনিকের মালিক, নার্স ও স্টাফসহ দশজনের নামে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে ক্লিনিকের মালিক কথিত সার্জিকাল চিকিৎসক আব্দুল হাইকে আটক করে পুলিশ। আব্দুল হাই বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
এদিকে থানায় দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে মণিরামপুর থানার সদ্য বিদায়ী ওসি সহিদুল ইসলাম ক্লিনিকটি বন্ধ ঘোষণা করার জন্য যশোরের সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করেন। সিভিল সার্জন অফিস বিষয়টি তদন্ত করে ক্লিনিক সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেন।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শুভ্রারানী দেবনাথ বলেন, সম্প্রতি মনোয়ারা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ভুয়া ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করানোর বিষয়ে ইউএনওর দপ্তরে একটি অভিযোগ পড়ে। আবার ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতে পারেন। এসব বিষয়ে সিভিল সার্জনের নির্দেশে গত শনিবার হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত হয়। তদন্তে আমরা জানতে পারি ক্লিনিকের মালিক আব্দুল হাই নিজে ডাক্তার না হয়ে রোগীর অপারেশন করেন। তাছাড়া সুব্রত নামে এক ইউনানি চিকিৎসককে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী সাজিয়ে ক্লিনিকে অপারেশন করা হয় বলে জানা গেছে।
টিএইচও শুভ্রারানী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দীলিপকুমার রায় মনোয়ারা ক্লিনিক সিলগালা করতে ইউএনও অফিসে চিঠি দেন। চিঠি পাওয়ার পর এসিল্যান্ড অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন।

আরও পড়ুন