সেতুটি থেকে প্রায়ই নীচে পড়ছে যানবাহন

আপডেট: 06:22:54 10/01/2019



img

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ : মাত্র আট ফুট চওড়া সেতু, যার ওপর দিয়ে চলাচল করে পথচারী ও যানবাহন। দীর্ঘদিন এই সেতুটির দুই পাশের রেলিং ভেঙে পড়ে আছে। রেলিং নির্মাণে ব্যবহার হওয়া রড়গুলোও চোরেরা কেটে নিয়ে গেছে। আর এই রেলিং ছাড়া সেতুতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কিন্তু সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।
এই অবস্থা ঝিনাইদহের পোড়াহাটি-বারইখালী সড়কের নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির।
স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি তারা এলজিইডি বিভাগকে অবহিত করেছেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এখন এই সেতুটির ওপর দিয়ে চলাচল করতে তাদের ভয় হয়। তারপরও উপায় না পেয়ে চলাচল করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বারইখালী, ইস্তেকাপুর, আড়–য়াডাঙ্গা ও বাস্তেপুর- চার গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতেন। বারইখালী গ্রামের শেষে নবগঙ্গা নদীতে এই সাঁকো তৈরি করে ঝিনাইদহ শহরে যাতায়াত করতে হতো তাদের। এই দুরবস্থা দেখে এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০২-০৩ অর্থবছরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এই স্থানে ৩৯ মিটার লম্বা একটি সেতু নির্মাণ করে। ২০০৩ সালের ৩০ জানুয়ারি সেতুটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে ওই এলাকার মানুষেরা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন।
বারইখালী গ্রামের সলিম উদ্দিন লস্কর জানান, গত ৩-৪ বছর হলো সেতুর রেলিং ভাঙতে শুরু করে। প্রথমে একপাশের রেলিং ভেঙে পড়ে। এর কয়েক মাসের মধ্যে আরেক পাশের রেলিংও ভেঙে যায়। মাঝে-মধ্যে দুই একটা পিলার দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রায় দুই বছর হলো একটিও আর নেই। এমনকি দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে রেলিং নির্মাণ করতে যে রড ব্যবহার করা হয়েছিল সেগুলোও চোরেরা কেটে নিয়ে গেছে। এখন দেখলে খুব একটা বোঝার উপায় নেই যে, এই সেতুতে কখনো রেলিং ছিল।
ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা জানান, সেতুর ওপর রেলিং না থাকায় তাদের খুবই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এই সেতুটি ব্যবহার না করলে ঝিনাইদহ শহরে আসতে তাদের আরো তিন কিলোমিটার ঘুরতে হয়। যে কারণে ঝুঁকি নিয়ে হলেও তারা এই সেতুই ব্যবহার করেন।
তিনি জানান, রেলিং না থাকায় ভ্যান-রিকশা সেতুর ওপর ওঠাতে চান না চালকরা। যারা ঝুঁকি নিয়ে ওঠেন, তাদেরও মাঝে মধ্যে নিচে পড়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে।
মোস্তফা আরো জানান, কয়েকদিন হলো দুটো ইট বহনকারী নসিমন সেতুর ওপর থেকে নিচে পড়েছে। এতে দুই চালকই কমবেশি আহত হয়েছেন।
সেতুটি মাত্র আট ফুট চওড়া করে নির্মাণ করা। যে কারণে এর ওপর একটা ভ্যানগাড়ি থাকলে পাশ দিয়ে কোনো পথচারী যেতে পারেন না। অথচ রেলিং থাকলে দুটি ভ্যানগাড়িও পাশাপাশি চলাচল সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, এই ভাঙা সেতুর বিষয়ে তারা উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে ইতিপূর্বে একাধিকবার জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় ধরনা দেওয়া বন্ধ করেছেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের যানমাল রক্ষায় দ্রুত এই সেতুটির রেলিং মেরামত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, এটি গ্রাম্য সড়ক। সেই সময়ে এলাকার মানুষের প্রয়োজনে সেতুটি নির্মাণ হলেও এখন গ্রাম্য সড়কের সংস্কার কাজে বাজেট পাওয়া কষ্টকর। যে কারণে তারা ইচ্ছা থাকলেও এটা মেরামত করতে পারছেন না। তবে সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং দেখলে তার কষ্ট হয় বলে জানান।

আরও পড়ুন