সৈয়দ তারিকের কবিতা

আপডেট: 09:25:03 07/07/2017



img

পঞ্চরস

১.
চাঁদে-পাওয়া রাতে ঝিমানো শহরে
হেঁটেছে যুবক কবিতাহত,
বুকে ছিল ব্যথা অবিশ্বাসের
চোখে স্বপ্নের পুরানো ক্ষত।

শীতঘুমে কাটে গ্রীষ্ম-বর্ষা
বেদনাবিধুর কলমদান,
সুবেহসাদিকে ঘুম ভেঙে দিয়ে
কানে কানে তুমি দিলে আজান।

২.
থামে না সফর সিন্দাবাদের
আসে না ক্লান্তি তার,
বাইরে সাগর ভিতরে সাগর
সাগরের নাই পাড়।

এই বন্দরে একটু দাঁড়ায়
ওই বন্দর ছাড়ে,
সিন্দাবাদের কিস্তি যাচ্ছে
পাড়হীনতার পাড়ে।

৩.
ছায়ার আদরে ছায়া ওঠে বেড়ে
ছায়ার গভীরে নিবিড় ছায়া,
ছায়ায় ছায়ায় ছায়াসঙ্গমে
ছায়া চেয়ে দেখে আপন ছায়া।

ছায়া কেঁদে ওঠে ছায়ার বিরহে
ছায়ারও হৃদয়ে জাগে কি শোক?
ছায়া মরে যায় মগ্ন ছায়ায়
ছায়ার নতুন জন্ম হোক।

৪.
তন্ময় ছিলো অলকানন্দা
সুস্মিত ছিলো কামিনী,
তুমি দিয়েছিলে তুমুল সাঁতার
আমি কি পানিতে নামিনি?

সংবৃত ছিলো পাহাড়ি ঝরনা
শিহরিত ছিলো হরিণী,
তুমি জ্বলেছিলে দীপ্র আলোয়
আমি কি একটু পুড়িনি?

৫.
উদয়সূর্য বিলয়সূ্র্য
সূর্য মধ্যবেলা,
তোমার সঙ্গে কবিতা হলো না
কেবল পদ্য-খেলা।

গৌরচন্দ্র কৃষ্ণচন্দ্র
চন্দ্র কি হয় লাল?
তুমি বলে কেউ ছিলে না কখনও
তুমি আছো চিরকাল।


[সৈয়দ তারিক : জন্ম ১৯৬৩ সালের ১০ আগস্ট। বাবা সৈয়দ ওয়ারিশ হোসেন, মা ফেরেদৌসী বেগম। জন্মস্থান ও বসবাস ঢাকায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকাশিত বই : ১. ছুরি হাতে অশ্ব ছুটে যায় ২. মগ্ন তখন মোরাকাবায় ৩. আমার ফকিরি ৪. নাচে দরবেশ মাস্ত্ হালে ৫. ঊনসন্ন্যাসী।]