স্কুলের চেয়ে কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থী বেশি!

আপডেট: 09:40:19 23/10/2016



img
img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সরকারি স্কুলের চেয়ে কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থী বেশি। এ তথ্য দেখতে পেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তারা। তারা রোববার সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারবিরোধী অভিযান চালান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা বাস্তবায়নে সাতক্ষীরায় কোচিংবিরোধী ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয় রোববার। সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কোচিং সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) খুলনা অঞ্চল। এসময় তারা বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিত কম দেখতে পান। সেই তুলনায় কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল বেশি।
কোচিংবিরোধী অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়িতে পড়ানো কয়েকজন শিক্ষকসহ কয়েকটি কোচিং সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান। শিক্ষার মানউন্নয়ন, সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক টিএম জাকির হোসেনের নেতৃত্বে মাউশির কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন। আগামীতে ও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও এসময় ঘোষণা দেওয়া হয়।
অভিযানকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হাসান সোরওয়ার্দী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরীমোহন সরকার, গবেষণা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, সহকারী পরিদর্শক শেখ হেদায়েত হোসেন প্রমুখ।
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ শহরের বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টার ও শিক্ষকের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ পলিটেকনিক কলেজ শিক্ষক মো. সামছুজোহা ও কালিগঞ্জ কাটুনিয়া রাজবাড়ি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মো. আনোয়ারুজ্জামানকে কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সতর্ক করে দেওয়া হয় বলে জানান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক টি এম জাকির হোসেন।
তিনি আরোও জানান, কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের কোচিং করাতে পারবেন না। তারপরও অনেকে গোপনে নীতিমালা ভঙ্গ করছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাউশির অভিযান অব্যাহত থাকবে। নীতিমালা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযান পরিচালনাকালে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির একটি ব্যাচে ৭০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৪ জনকে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত দেখতে পান পরিদর্শকরা। একই শ্রেণির অপর ব্যাচে ৭১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ২০ শিক্ষার্থী। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির একটি ব্যাচে ৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল  ৬১ জন। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে  সদুত্তর দিতে পারেননি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মধ্যে কোচিং নীতিমালা ভঙ্গ করা হচ্ছে না। তবে শিক্ষর্থীরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত না হয়ে যদি কোচিং সেন্টারে যায় সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা অভিভাবকদের ডেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলছি।’
এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশকে সাতক্ষীরা শহর সমাজসেবা অফিস-সংলগ্ন র‌্যামস একাডেমিক কেয়ার কোচিং সেন্টারে পাওয়া যায়। অভিযান পরিচালনাকারী টিম শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলে তারা ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানায়। 
অভিযান চলাকালে শহরের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলো সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীতে ভরপুর ছিল। স্কুল চলাকালে তারা কোচিং করছিল।
এদিকে কোচিং বানিজ্য বন্ধ করা বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘সাম্প্র্রতি সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোচিং বন্ধ করার জন্য বলা হয়। সে মোতাবেক এই বিদ্যালয় দুটিতে বেশ কিছু দিন কোচিং বন্ধ থাকার পর কিছু শিক্ষকের উসকানিতে অভিভাবকরা আমার কাছে একটি আবেদন করেন কোচিং চালানোর জন্য। আমি পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস করানোর কথা বলেছি। যাদের মার্ক শুধু মাত্র ৫০ অথবা ৬০ এর নীচে তাদের নিয়ে এ ক্লাস হতে পারে।’
এ বিষয়ে একটি মিটিং  করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো জানান, নীতিমালা অনুযায়ি কোচিং বানিজ্য বন্ধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন কঠোর। কিন্তু এর জন্য অভিভাবকদের সদিচ্ছাও থাকা দরকার। তাছাড়া যে সব শিক্ষক কোচিং করতে বাধ্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া অতিরিক্ত ক্লাস করালে সরকারি খাতে দশ শতাংশ টাকা জমা হওয়ার কথা; যে টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করার কথা। সে টাকা কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তাও খতিয়ে দেখা হবে।  প্রয়োজনে মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজার ব্যবস্থাও করা হবে।

আরও পড়ুন