স্কুলের সামনেই পা হারালো মেধাবী মেয়েটি

আপডেট: 02:29:39 20/03/2019



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার : স্কুলের সামনেই পিকআপের চাকায় পিষ্ট ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মেফতাহুল জান্নাত নিপার জীবন রক্ষা পেলেও তার একটি পা কেটে ফেলতে হলো। আর সেই সঙ্গে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন।
আজ সকালে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারনে বুরুজবাগান পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত আরো তিন ছাত্রীকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মেফতাহুল জান্নাত নিপা শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একই এলাকার সবুজকুঁড়ি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিপাসহ চার শিক্ষার্থী একটি রিকশা-ভ্যানে চড়ে স্কুলের সামনে এসেছিল। ওই সময় দ্রুতগামী একটি পিকআপ ভ্যা শিক্ষার্থীদের রিকশাভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে নিপা গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পিকআপটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় ও যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের ডাক্তার আব্দুর রউফ জানান, অপারেশনের মাধ্যমে নিপার ডান পা হাঁটুর নীচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। সে এখন আশঙ্কামুক্ত।
খবর পেয়ে হাসপাতালে নিপাকে দেখতে যান যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল।
তিনি বলেন, নিপার সব ধরনের চিকিৎসার ভার জেলা প্রশাসন বহন করবে।
নিপার বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়েটা খুবই মেধাবী। তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু কপালে এ কী ঘটে গেল!’
রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছরই নিপা বুরুজবাগান পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি হয়। ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকায় সে প্রথম স্থান অধিকার করে। এর আগে সে একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে। সেখানেও তার রোল ছিল এক।

আরও পড়ুন