স্ত্রী সন্তান থাকা সত্ত্বেও লাশ বেওয়ারিশ

আপডেট: 10:07:48 13/05/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : স্ত্রী ও ছেলে বেঁচে থাকার পরও কালু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন হতে চলেছে। ছোট তিন ছেলে ও স্ত্রীকে ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে দূরে চলে যাওয়ায় ক্ষোভে সন্তানরা তার পরিচয় পর্যন্ত দিচ্ছেন না। মৃত্যুর পর বাবার মুখও দেখেননি তারা।
কালু মিয়া যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তার দুই সন্তান পলাশ ও জুলহাস এবং প্রথম স্ত্রী যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কালু মিয়া ‘আননোন পয়জনিং’ রোগী হিসেবে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কালু মিয়াকে ইন্টার্ন চিকিৎসক বুশরা কবির মৃত ঘোষণা করে মর্গে পাঠান। মৃত্যুর পর কালু মিয়ার কোনো স্বজনদের দেখা না মেলায় কোতয়ালী থানার এসআই কাইয়ুম মুন্সি হাসপাতাল এলাকার অতি পরিচিত মুখ (বিভিন্ন ক্লিনিকের হয়ে কাজ করার কারণে পরিচিত) পলাশকে খুঁজে বের করেন। পরে পলাশ স্বীকার করেন কালু মিয়াই তার জন্মদাতা।
লাশ গ্রহণের জন্য এসআই কাইয়ুম মুন্সি তাকে অনুরোধ জানালে তিনি উপস্থিত সকলের সামনে বলেন, ‘কালু মিয়া আমার মা ও ছোট তিনটি সন্তানকে ফেলে যায়। কোনোদিন খোঁজও নেয়নি। দ্বিতীয় বিয়ে করে সারা জীবন দূরে দূরে থেকেছে। এক ভাইয়ের মৃত্যুর পর পরের বাসায় কাজ করে আমরা দুই ভাই বড় হয়েছি। জন্মদাতা বাবা যখন আমাদের দেখেনি, আজ আমরাও তার মুখ দেখবো না।’
পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মা না বলা পর্যন্ত তার মুখ পর্যন্ত দেখবো না। এমনকি তার লাশও গ্রহণ করবো না।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পলাশ ও জুলহাস কখনো হাসপাতালের, কখনো ক্লিনিকের দালালি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্য রুহুল জানান, সোমবার সকাল পর্যন্ত কালু মিয়ার স্বজনরা যদি লাশ গ্রহণ না করেন তাহলে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, স্বজনরা লাশ না নিলে তার মরদেহ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে দাফনের জন্য দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন