স্থলবন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

আপডেট: 02:52:53 12/07/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপনকুমার চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ গেছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক এনামুল হক মোল্যা পরিচয়ে এই অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এই অভিযোগ দেওয়া হয়।
তবে এনামুল হক ওই অভিযোগ দুদকে পাঠাননি বলে দাবি করেন। তবে তিনি বলেন, ‘যিনি আমার নাম ব্যবহার করে চিঠিটি দুদকে পাঠিয়েছেন তাকে আমি সাধুবাদ জানাই।’
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ প্রথমে ধামাচাপা থাকলেও সোমবার বিকেলের দিকে বেনাপোলে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা করতে থাকেন।
চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটির পরিচালক ও আহ্বায়ক এ কে এম জায়েদ হোসেন খান বলেন, ‘ইতোমধ্যে অভিযোগকারীকে ওই চিঠির জবাব দেওয়া হয়েছে।’
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রেজাউল করিমও।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে ওই অভিযোগকারী এখন এ চিঠির সত্যতা স্বীকার করছেন না। চিঠির সত্যতা সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখছেন।’
এদিকে, দুদক থেকে ফিরতি চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন কথিত অভিযোগকারী ট্রাফিক পরিদর্শক এনামুল হক মোল্যা।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজে ওই অভিযোগ দুদকে পাঠাইনি। তবে যিনি আমার নাম ব্যবহার করে চিঠিটি দুদকে পাঠিয়েছেন তাকে আমি সাধুবাদ জানাই।’
এনামুল হক মোল্যা বলেন, ‘বন্দরের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার সবই সত্যি। আমি চেয়ারম্যানকে অনিয়মের বিষয়ে ফোনে বলেছিলাম, আপনি শুদ্ধ হন। না হলে আমি উপরে (ঊর্ধ্বতনদের কাছে) অভিযোগ পাঠাবো। তিনি (চেয়ারম্যান) ভালো কোনো বিষয়ের মতামতকে গুরুত্ব দেন না। উল্টো বন্দর উন্নয়ন কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।’
এছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রেও বন্দর চেয়ারম্যান দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘তদন্ত করলে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ পাবে।’
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে উন্নয়ন কাজ চালানোর কারণে বন্দরের বেহাল অবস্থা। বন্দর থেকে আমদানি পণ্য পাচার, চুরি ও অনিয়ম এখন সাধারণ বিষয়।
‘বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বারবার কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হলেও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। অথচ এ বন্দর থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করছে সরকার,’ বলেন সজন।

আরও পড়ুন