স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে মিনতির

আপডেট: 05:59:48 08/10/2018



img

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ভাঙা ঘরে প্রদীপ জ্বলে উঠলেও টাকার অভাবে যেন তা নিভে যেতে বসেছে। অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ফরমও তুলতে পারেননি মিনতিরানী। অথচ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছিলেন এই ছাত্রী।
মহেশপুর পৌর এলাকার কৈলাশপুর আদিবাসীপাড়ার দিনমজুর চিত্তরঞ্জনের মেয়ে মিনতি।
এসএসসিতে জিপিএ ৫ ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৬৭ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি মেয়ে নিয়ে বাবা চিত্তরঞ্জন ও মা সবিতা বালার সংসার চলে টেনেটুনে। খেয়ে না খেয়ে লেখাপড়া করে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করলেও আর এগুতে পারছেন মিনতি।
মেধাবী শিক্ষার্থী মিনতি বলেন, ‘অভাব অনটনের সংসারে থেকেও নিজের চেষ্টা ও মা-বাবার সহযোগিতায় এতোদূর এসেছি। আমাদের কোনো ভাই নেই। তিন বোন মধ্যে আমি বড়। আমার স্বপ্ন ছিল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে লেখাপড়া শেষ করে অভাগী মা আর বাবার পাশে দাঁড়াবো। কিন্তুসে স্বপ্ন ভেঙে যেতে বসেছে। শতচেষ্টা করেও অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম তুলতে পারিনি।’
মিনতি রানীর মা সবিতা বালা বলেন, ‘মেয়েটি খুব মেধাবী। কোনোদিন প্রাইভেট পড়াতে হয়নি তাকে। তবু খুব ভালো রেজাল্ট করেছে। ওর বাবা কখনো ভ্যান চালায়, কখনো ঘর মেরামতের কাজ করে। তাতে যা পায় তা দিয়ে পাঁচজনের সংসার চলে কোনো মতে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মিনতির ইচ্ছা ছিল ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার। কিন্তু আমরা এতটাই অভাগা মা-বাবা যে মেয়ের ভর্তি ফরমও তুলে দিতে পারিনি।’
কিছু করার আছে কি-না জানতে চাইলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ্বতী শীল বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ছাত্রী আমার অফিসে আসেনি। এলে আমি অবশ্যই তার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তা করবো। আমি কোনো গরিব মেধাবী ছাত্রীকে ঝরে যেতে দেবো না।’