স্বামী পরিত্যক্তার ঘর ভেঙে খালে ফেললেন মেম্বার!

আপডেট: 06:40:14 25/01/2018



img
img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীর বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ করা হচ্ছে, বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের মেম্বার স্বপনচন্দ্র বিশ্বাসের নেতৃত্বে আজ দুপুরে কালুখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটানো হয়। বাড়িটি মাবিয়া বেগম (৪৫) নামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর।
তিনি অভিযোগ করছেন, তার দুটি বসতঘরসহ ভাই চুন্নু খানের তিনটি ঘর ভেঙে বাড়ির পাশে খালের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
মাবিয়া বেগম বলেন, ‘তিন মেয়ে নিয়ে কালুখালীতে ২৫ বছর ধরে বসবাস করছি। মেম্বার স্বপনচন্দ্র বিশ্বাস ও তার লোকজন আমার বসতঘর ভেঙে বাড়ির পাশের খালের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ঘরের মালামাল কিছু ছিনিয়েও নিয়েছে তারা।’
চুন্নু খানের স্ত্রী আছিয়া বেগম জানান, ৯০ শতক জমি নিয়ে প্রায় সাত বছর যাবত কালুখালীর অমর বিশ্বাস ওরফে মরা বিশ্বাসসহ তার দুই ভাইয়ের সঙ্গে মামলা চলে আসছিল। আদালতের রায়ে ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর মাবিয়া বেগম ও চুন্নু খান জমির মালিকানা বুঝে পান। প্রায় দুই মাস আগে ওই জমিতে তিনটি টিনের ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন তারা। অমর বিশ্বাসের পক্ষে স্বপনচন্দ্র (৫০), ভাই মিলনসহ তাদের লোকজন দুপুরে হঠাৎ করে বাড়িঘর ভেঙে খালের মধ্যে ফেলে দেয়। এ সময় মাবিয়াদের বাড়ির পুরুষেরা ক্ষেতে কাজ করছিলেন।
চুন্নু খানের ছেলে ইমামুল বলেন, ‘সকালে মেম্বার স্বপন আমাদের বাড়িতে এসে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা জানালে আমাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলে।’
ঘর ভেঙে খালে ফেলার কথা স্বীকার করলেও এই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন মেম্বার স্বপনচন্দ্র বিশ্বাস।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বে থাকায় আমার ওপর দোষ আসতে পারে। তবে আমি নিজে থেকে কিছু করিনি। ঘর ভাঙার সময় আমি কালিয়া উপজেলা সদরে ছিলাম।’
কালিয়া থানার ওসি শেখ শমসের আলী জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন