স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে কলেজছাত্রী

আপডেট: 01:29:10 06/10/2018



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে ‘স্বামীর’ বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন জান্নাতারা খাতুন শাপলা (২২) নামে এক কলেজছাত্রী।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মাছনা গ্রামে প্রেমিক এহসানুল হক রনির বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। আর বাড়িতে প্রেমিকা তথা স্ত্রী অবস্থান নেওয়ার খবর শুনে পালিয়েছেন প্রেমিক রনি।
রনি ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলামের ছেলে। তিনি নড়াইলের একটি কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।
শাপলা একই উপজেলার কোড়ামারা গ্রামের মশিয়ার রহমানের মেয়ে। তিনি মণিরামপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিয়েছেন।
এদিকে শাপলাকে ঘরে না তুলে দরজায় তালাবদ্ধ করে রেখেছেন রনির পরিবার। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সরেজমিন গিয়ে শাপলাকে তালাবদ্ধ ঘরের সামনে বসে থাকতে দেখা গেছে।
শাপলা জানান, তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কের জেরে দুই পরিবারের অমতে গত ১৭ জুন রনির সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর স্ত্রীকে ঘরে না তুলে বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে রনি তার (শাপলার) খালাবাড়ি বা বাপের বাড়িতে রাত কাটান। একপর্যায়ে গর্ভবতী হন তিনি। ঘরে তোলার আশ্বাসে শাপলার গর্ভপাত ঘটান রনি। কিন্তু তারপরও তাকে ঘরে তুলে নেওয়া হয়নি। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীর পর্যাদা আদায়ে শুক্রবার বিকেলে স্বামী রনির বাড়িতে আসেন শাপলা।
শাপলা বলেন, ‘বিকেলে রনির বাড়িতে আসার সময়ও তার সাথে আমার কথা হয়েছিল। তার আশ্বাস পেয়েই আমি এই বাড়িতে এসেছি। বাড়িতে এসে রনিকে পাইনি। তার বাড়ির লোকজন গেটে তালা মেরে রেখেছেন। তারা আমাকে গ্রহণ করছেন না। আমাকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত আমি এখানে থাকব।’
স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেন শাপলা।
মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে এহসানুল হক রনি বলেন, ‘সে (শাপলা) যা বলছে, তা সত্য। সময় হলে আমি তাকে গ্রহণ করব।’
আর রনির বাবা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ের বাবা-মাকে খবর দিয়েছি। তারা আসুক। তখন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) এনামুল হক বলেন, ‘এমন কোনো বিষয় আমাদের জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন