স্মরণে মরমী কবি পাগলা কানাই

আপডেট: 06:58:52 12/07/2017



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : মরমী কবি পাগলা কানাইয়ের ১২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হলো আজ ২৮ আষাঢ়, ১২ জুলাই।
দিবসটি উপলক্ষে তার জন্মভিটা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে ‘পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ’ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি আয়োজন করে।
সকালে কবির মাজারে পুস্পমাল্য অর্পণের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। এরপর আলোাচনা সভা এবং পাগলা কানাই রচিত সঙ্গীত পরিবেশন ও খাবার বিতরণ করা হয়।
পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ জানান, বিকেলে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের সচিব রেজাই রাফিন সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।
পাগলা কানাই ছিলেন লালন-পরবর্তী বাংলার অন্যতম প্রধান মরমী সাধক ও লোককবি। তিনি ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে ১২১৬ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলা মাধবপুর গ্রামে জন্ম নেন। তার বাবার নাম মেসের আলী আর মা মোমেনা খাতুন।
ঐতিহাসিকদের মতে, কৈশোরে তার বাবার মৃত্যুর পর কানাই মামার বাড়ি বেড়বাড়ি চলে আসে। সেখানে সে রাখালের কাজ শুরু করে। এসময় সে আধ্যাত্মিক ভাব ধারার একাধিক বাউল শিল্পীর সংস্পর্শে আসে। এরপর শুরু হয় তার মাঠে মাঠে রাখাল বালকদের সঙ্গে সঙ্গীতের হাতেখড়ি। সে সময় তার গানে মুগ্ধ হয়ে মাঠের ক্লান্ত কৃষক আর রাখালরা তাকে ‘পাগলা কানাই’ বলে ডাকতো। এভাবেই তার মুগ্ধ করা গানের কথা খুব অল্প সময়ে এলাকা ছেড়ে গোটা বাংলার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
অল্প সময়ের মধ্যে তিনি আধ্যত্মিক গান রচনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৮০ বছরের জীবদ্দশায় প্রায় তিন হাজার আধ্যাত্মিক ও ভক্তি সঙ্গীত এবং কবিতা রচনা করে গেছেন। তার রচিত গানের মধ্যে রয়েছে পালাগান, জারিগান, ধুয়াগান, কবিগান, মুর্শিদি, মারফতি এবং ইসলামিক গান।
‘জিন্দা দেহে মুরদা বসন, থাকতে কেন পরো না / মন তুমি মরার ভাব জানো না’- সাধক কবি পাগলা কানাইয়ের এমন হাজারো গান এক সময় মন কেড়েছিল গ্রামবাংলার মানুষের। কিন্তু সংগ্রহ আর সংরক্ষণের অভাবে রচনার বৃহদাংশই চিরতরে হারিয়ে গেছে। দ্রুত সংরক্ষণ করা না হলে হয়তো হারিয়ে যাবে কবির সব সাধনা আর অর্জন।
১৮৮৯ সালের জুলাই মাস মোতাবেক ১২৯৬ সালের ২৮ আষাঢ় পাগলা কানাই ভক্তদের কাঁদিয়ে বিদায় নেন। মৃত্যুর পর মরমি কবি পাগলা কানাইকে তার ভক্ত আর আত্মীয় স্বজনরা তার মামা বাড়ি বেড়বাড়িতেই দাফন করেন। সেখানেই সরকারিভাবে তৈরি করা হয়েছে ‘পাগলা কানাই স্মৃতি অডিটরিয়াম’ এবং পাকা করা হয়েছে কবির কবরস্থান।
পাগলা কানাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কবিভক্তরা অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ধুয়া ও জারি গানসহ কবির রচিত সঙ্গীত পরিবেশন করার মধ্যে দিয়ে এ দিনটি পালন করে থাকেন তারা।