হঠাৎ দরজায় টোকা

আপডেট: 03:13:50 17/05/2018



img

মূল : এটগার ক্যারেট   ভাষান্তর : মাইনুল ইসলাম মানিক

আমার শোবার ঘরের সোফায় বসতে বসতে দাড়িওলা লোকটি আদেশ করলেন, ‘একটা গল্প শোনাও’। এমন একটা পরিস্থিতি আর যাই হোক আমার জন্যে মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না, একথা স্বীকার করে নিচ্ছি। আমি গল্প লিখি, গল্পকথক নই। এমনকি নিতান্ত প্রয়োজনেও কখনো এই কাজটি আমি করিনি। আমার কাছে হরহামেশা অনেকেই গল্প শুনতে চায়। শেষবার আমার কাছে গল্প শুনতে চাওয়া ব্যক্তিটি ছিল আমার পুত্র। সেটিও বছরখানেক আগের ঘটনা। পরী এবং শিকারী নিয়ে কোনো একটা গল্প শুনিয়েছিলাম যা এখন ঠিক মনেও করতে পারছি না। গল্প শুনতে শুনতে মিনিট দুয়েকের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতিটা একেবারেই আলাদা। কারণ আমার পুত্রের না দাড়ি ছিল, না পিস্তল ছিল। আমার সন্তান খুবই নির্মলচিত্তে গল্প শুনতে চেয়েছিল। কিন্তু এই লোকটি রীতিমত জবরদস্তি করে আমার কাছে গল্প শুনতে চাচ্ছে।
আমি তাকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, পিস্তলটাকে দূরে সরিয়ে রাখলেই আমাদের উভয়ের জন্যে ব্যাপারটা সুবিধাজনক হবে। মাথায় গুলিভর্তি পিস্তল ঠেকিয়ে রাখলে তো গল্প চিন্তা করাও কঠিন। কিন্তু লোকটা গোঁয়ার্তুমি করতে থাকে। তার যুক্তি, ‘এদেশে কিছু পেতে চাইলে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়।’ লোকটা এসেছে সুইডেন থেকে। সুইডেনে কিন্তু এই ব্যাপারটি একেবারেই ভিন্নরকম। সেখানে আপনি যদি কিছু পেতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই বিনীতভাবে তা চাইতে হবে। অধিকাংশক্ষেত্রে আপনি তা পেয়েও যাবেন। কিন্তু অবরুদ্ধ, গুমোটপূর্ণ এই মধ্যপ্রাচ্যে এটি অসম্ভব। কীভাবে আপনার কাজ উদ্ধার করতে পারবেন, আর কী কারণে আপনার কাজটি আটকে থাকবে—সেটি বুঝতেই এক সপ্তাহ চলে যাবে আপনার। ফিলিস্তিনিরা খুব শান্তিপূর্ণভাবে একটা রাষ্ট্র চেয়েছিল। তারা কি সেটি পেয়েছে? উল্টো তাদেরকে নরকে পরিণত করা হলো। উপায়ান্তর না পেয়ে তারা বাসে বাচ্চাদের উড়িয়ে দিতে শুরু করল। তখনই কেউ কেউ তাদের কথা শুনতে শুরু করল। বসতি স্থাপনকারীরা সংলাপে বসতে চাইল। কিন্তু কেউ কি এর সমাধান দিতে পেরেছে? এর সমাধানের কোনো পথ নেই। সুতরাং ফিলিস্তিনিরা ভিন্ন পথ বেছে নিল। তারা সীমান্তপ্রহরীদের গরম তেল ছুঁড়ে মারার মতো দৈহিক শক্তিপ্রয়োগ শুরু করল। আর তারপরই হঠাৎ তারা সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হলো। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলিতে শক্তি প্রয়োগ করেই অধিকার ছিনিয়ে নিতে হয়—চাই সেটি রাজনৈতিকই হোক কিংবা অর্থনৈতিক বা গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান নিয়েই হোক। আমরা যে ভাষাটি প্রতিবাদহীনভাবে মেনে নিই তা হচ্ছে, পাশবিক শক্তির প্রয়োগ।
এই দাড়িওলা লোকটি সুইডেন থেকে এসেছে। সুইডেন একটি প্রগতিশীল দেশ। এর বেশকিছু এলাকার লোকজন মননশীলতার দিক থেকে খুবই রুচিবোধসম্পন্ন। সুইডেন শুধুমাত্র অ্যাবা জাদুঘর বা আইকেই’র সজ্জা কিংবা নোবেল পুরস্কারের দেশই নয়। সুইডেন নিজেই একটা পৃথিবী। সুইডেনবাসীরা যা কিছু পেয়েছে, তার সবটুকুই পেয়েছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে। এই লোকটি যদি সুইডেনের কোনো একজন পপ গিটারশিল্পীর কাছে যেত, সেই রমণীর দরজায় করাঘাত করত আর তাকে বলত তার জন্যে গাইতে; তবে সেই নারী তাকে ভেতরে যাবার আমন্ত্রণ জানাতো এবং তাকে এক কাপ চা পরিবেশন করত। তারপর সে বিছানার নিচ থেকে তার মোহনীয় গিটারটি টেনে বের করত এবং তাকে বাজিয়ে শোনাতো। আর এই সবকিছুই ঘটত হাসিমুখে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে? আমি বুঝাতে চাচ্ছি, সে যদি পিস্তল তাক না করত তবে, আমি তাকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিতাম। আমি তাকে যুক্তি দেখাতে চাইলাম। কিন্তু দাড়িওলা লোকটি বাধা দিল এবং তার পিস্তলটি তাক করে রাখল। ‘হয়তো গল্প শোনাবে, নতুবা দুই চোখের ঠিক মাঝখানে একটা গুলি’। আমি দেখলাম, আমাকে খুব সীমিত পথ বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। লোকটি খুব তাড়া দিচ্ছিল। আমি গল্প বলতে শুরু করলাম, ‘দুজন লোক একটি কক্ষে বসে আছে। হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল’। দাড়িওলা লোকটি খুব মনোযোগী হয়ে ওঠে। আমি ভেবেছিলাম লোকটিকে গল্প পেয়ে বসেছে। কিন্তু আদতে তা নয়। তিনি অন্যকিছু শুনছিলেন। দরজায় কেউ টোকা দিচ্ছিল। সে আমাকে বলল, ‘দরজটা খোলো। চালাকির চেষ্টা কোরো না। সে যে-ই হোক, দ্রুত বিদায় করবে। নইলে এর পরিণতি খুব খারাপ হবে।’ দরজায় দাঁড়ানো লোকটি কোনো একটা জরিপ করছিল। সে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাচ্ছে। খুব ছোট ছোট প্রশ্ন। গ্রীষ্মে এখানকার অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং তা আমার চরিত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলে সেসব নিয়ে। আমি তাকে জানিয়ে দিলাম, তার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ব্যাপারে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু সে জোর করে বাসার ভেতর ঢুকে পড়ে।
সে দাড়িঅলা লোকটির দিকে ইঙ্গিত করে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘এটা কে?’ আমি বানিয়ে বললাম, ‘আমার ভাইপো। একটা বরফধ্বসে ওর বাবা মারা গেছে। সে তার বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতেই এসেছে এখানে। আমরা সেসব বিষয়ে কথা বলছি। আপনি কি আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এখান থেকে বিদায় নেবেন?’ জরিপকারী লোকটা আমার কাঁধ চাপড়ে বললেন, ‘দেখুন মহাশয়। মাত্র তো অল্প কয়েকটা প্রশ্ন। একটা লোককে কয়েকটা মৃগ কেনার সুযোগ করে দিন। প্রতিটি উত্তরদাতার জন্যে কর্তৃপক্ষ আমাকে পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে।’ সে তার পোটলা নিয়ে টুপ করে সোফায় বসে পড়ল। সুইডিশ লোকটা বসেছে তার পরের আসনে। আমি তখনো দাঁড়িয়ে আছি আর তাকে বোঝাতে চাচ্ছি, আমি চাই সে বেরিয়ে যাক। আমি তাকে বললাম, ‘আপনার সময় ফুরিয়ে গেছে’ ‘ফুরিয়ে গেছে? ইশ্’। সে একটা প্লাস্টিকের পুটলি খুলল এবং বড় একটি পিস্তল বের করল। ‘আমার সময় কেন শেষ? কারণ আমি অসুন্দর? আমি যথেষ্ট ভালো নই? যখন একজন সুইডিশের পালা আসে, তখন তুমি দুনিয়ার সবটুকু সময় পেয়ে যাও। কিন্তু যখন একজন মরক্কোবাসীর পালা আসে, একজন সৈনিকের পালা আসে যে তার সব বিমর্ষতাকে পেছনে লেবাননে ফেলে এসেছে, তখন তোমার কাছে তাকে বলাৎকার করার মতোও একটি মিনিট সময় থাকে না।’ আমি তাকে বোঝাতে চাইলাম, ব্যাপারটি মোটেও সেরকম নয়। সে সুইডিশ লোকটির সঙ্গে আমার কথোপকথনের একটি সুক্ষ্ম অংশ তুলে ধরে। তার ঠোঁট বরাবর পিস্তলটি উঁচিয়ে রেখে আমাকে থামতে ইঙ্গিত করে। ‘থামো। অযুহাত দেখানো বন্ধ করো। ওদিকটায় বসো এবং চালিয়ে যাও।’ আমি জানতে চাইলাম, ‘কী চালিয়ে যাব?’ সত্যি বলতে এই সময়টাতে আমি খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। সুইডিশ লোকটির কাছেও একটা পিস্তল আছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। প্রাচ্য প্রাচ্য-ই আর পাশ্চাত্যও পাশ্চাত্য-ই, সবকিছুতেই। মানসিকতায়ও ভিন্নতা। তার হয়তো মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে খুব স্বাভাবিকভাবেই কারণ সে যেভাবেই হোক গল্প শুনতে চাচ্ছিল। একাকী। জরিপকারী লোকটা আমাকে সতর্ক করে দেয়, ‘আমাকে কিছু শুরু করতে বাধ্য কোরো না। হাতে সময় কম। গল্পটা শুরু করো এবং খুব দ্রুত শেষ করো।’ সুইডিশ লোকটাও তার সঙ্গে সুর মেলালেন এবং তার পিস্তলটিও বের করে বললেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, শুরু করো।’ আমি কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে নিলাম এবং নতুনভাবে আবার শুরু করলাম, ‘একটা কক্ষে তিনজন লোক বসে আছে’ সুইডিশ লোকটি বাধা দিয়ে বললেন, ‘হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল,’ এমন কিছু শুনতে চাই না। জরিপকারী লোকটি বিষয়টি বুঝতে পারেনি। কিন্তু তবুও সে সুইডিশ লোকটির সাথে তাল মেলায়, ‘চালিয়ে যাও। দরজায় টোকা নয়। অন্যকিছু শুনতে চাই। আমাদেরকে চমকে দাও।’
আমি কিছুটা থামলাম এবং গভীর শ্বাস নিলাম। ওরা দুজনেই পিটপিট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। এসব পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে খুঁজে পেতে পারি? আমি বাজি ধরতে পারি এমন সব ঘটনা আমোস ওয কিংবা ডেভিড গ্রোসম্যানের সাথেও ঘটেনি কোনোদিন। হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল। তাদের দৃষ্টি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। আমি অসহায়ত্ব বোধ করি। দরজায় টোকা পড়ার সাথে তো আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার গল্পে এই টোকা পড়ার সাথে সম্পর্কিত কিছু নেই। জরিপকারী লোকটি আদেশ করে, ‘বিদায় করো তাকে। তাকে তাড়িয়ে দাও সে যে-ই হোক।’ সামান্য শব্দে আমি দরজাটার একটা অংশ খুললাম। এ তো পিৎজা সরবরাহকারী লোক। সে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি ক্যারেট?’ ‘হ্যাঁ, আমি। কিন্তু আমি তো পিৎজা অর্ডার করিনি।’ সে ডেলিভারি রশিদের ঠিকানা দেখায় এবং আমাকে ঠেলে ভেতরে ঢুকতে থাকে, ‘ঠিকানা তো ১৪ জামেনহফ স্ট্রিট-ই লেখা’। আমি বললাম, ‘তাতে কী? আমি কোনো পিৎজা অর্ডার করিনি। সে গোঁয়ার্তুমি করতে থাকে, ‘ফ্যামিলি সাইজের পিৎজা। অর্ধেকটা আনারসের, অর্ধেকটা হেরিং মাছের। পিৎজা মূল্য পূর্বপরিশোধিত। ক্রেডিট কার্ড দ্বারা। আমাকে শুধু বখশিশটা দিন, আমি চলে যাই।’ সুইডিশ লোকটা জানতে চায়, ‘তুমিও এখানে গল্প শুনতে এসেছ?’ পিজ্জা সরবরাহকারী লোকটি জিজ্ঞেস করে, ‘কিসের গল্প?’। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, সে মিথ্যে বলছে। জরিপকারী লোকটি চেঁচিয়ে বলে, ‘সামনে আসো। যথারীতি পিস্তল বের করা আছে’। পিৎজা সরবরাহকারী লোকটি কিছুটা পিছিয়ে যায় এবং পিৎজা রাখার কার্ডবোর্ড ট্রের নিচ থেকে একটি ধারালো চাকু বের করতে করতে বলে, ‘আমার পিস্তল নেই। কিন্তু আমি তাকে কেটে ছোট ছোট টুকরো করে ফেলব যদি সে এরচে দ্বিগুণ ভালো কিছু না শোনায়।’
তারা তিনজন সোফায় বসে আছে—সুইডিশ লোকটি ডানে, মাঝখানে পিৎজা সরবরাহকারী, এরপর জরিপকারী লোকটি। আমি বললাম, ‘এভাবে আমি গল্প বলতে পারব না। তোমাদের তিনজন এবং এসব অস্ত্রশস্ত্রের সামনে আমার ভেতর হতে গল্প বের করে আনতে পারছি না। তোমরা পাশের ব্লকে যাও এবং কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটি করো। তোমরা ফিরে আসার আগেই কোনো গল্প পেয়ে যাবো।’ জরিপকারী লোকটা সুইডিশকে বলে, ‘তার আগেই সে পুলিশকে জানিয়ে দেবে। সে কি ভাবছে আমরা গতকালই দুনিয়ায় এসেছি?’ পিৎজা সরবরাহকারী লোকটা অনুরোধ করে, ‘এসো তো। গল্প বলে দাও একটা। আমরা আমাদের পথ ধরি। ছোট একটা গল্প। খুব বাড়াবাড়ি কোরো না। কতটা দুঃসহ সময় যাচ্ছে সে তো তুমি জানো। বেকারত্ব, আত্মঘাতী বোমা হামলা, ইরানের অধিবাসীগণ, আরো কত সমস্যা। লোকজন অন্যকিছুর জন্যে মুখিয়ে আছে। তুমি কি মনে করো আমরা আইনের প্রতি অন্ধ আনুগত্য করা কিছু যুবক এতদূর এসেছি? আমরা বিধ্বংসী, হে ভদ্রলোক, আমরা খুবই বিধ্বংসী।’
আমি গলা পরিষ্কার করে নিলাম এবং আবার শুরু করলাম, ‘একটি কক্ষে চারজন লোক বসে আছে। খুব গরম পড়ছে। তারা খুবই বিরক্ত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রও খুব একটা কাজ করছে না। তাদের কেউ একজন একটা গল্প শুনতে চাচ্ছে। দ্বিতীয় জন তার সাথে এসে যোগ দিলো। তারপর তৃতীয় জন...’। জরিপকারী আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘এটা কোনো গল্প নয়। এটা একটা চাক্ষুষ কাহিনি। এখন এখানে যা ঘটছে এটা ঠিক তারই বিবরণ যেখান থেকে আমরা বেরুতে চাচ্ছি। এরকম বাস্তবতাযুক্ত আবর্জনাকে তুমি পুঁতে ফেলতে পারো না? তোমার কল্পনাশক্তিকে ব্যবহার করো, হে ভদ্রলোক। সৃষ্টি করো, উদ্ভাবন করো, যেভাবেই হোক একটা গল্প বের করে আনো।’
আমি মাথা ঝাঁকালাম, ‘একটি লোক তার কক্ষে বসে আছে। সে একা। একজন লেখক সে। একটা গল্প লিখতে চায়। অনেকদিন আগে সে তার শেষ গল্পটি লিখেছে। এখন দারুণ লেখা খরায় ভুগছে। কিছু থেকে কিছু একটা সৃষ্টির অনুভূতিটা সে হারিয়ে ফেলেছে। এটাই ঠিক—কিছু একটা থেকেই অন্য কিছু বেরিয়ে আসে। কারণ শূন্য থেকে কিছুই বেরিয়ে আসে না। আপনি হালকা কিছু থেকে যা বের করে আনবেন তা মূল্যহীন। সেসব যে কেউই করতে পারে। কিন্তু যখন কিছু একটা থেকে অন্য কিছু একটা বেরিয়ে আসে, তার মানে দাঁড়ায় সত্যিকার অর্থেই তা সে ব্যক্তির ভেতর সবসময়ই বিরাজিত ছিল, আর সে নতুনত্বের অংশ হিসেবেই এটাকে উদ্ঘাটন করতে পেরেছে যা আগে কখনোই হয়নি। এই অবস্থা নিয়ে সে লেখক একটা গল্প লিখতে চাইল। গল্পটা নিছক কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থা নিয়ে নয়। সে যা প্রত্যক্ষ করছিল, গল্পটা ঠিক সে অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু সে কিছুই পারেনি। কোনো গল্পই নিজ থেকে ধরা দেয় না। কারণ সে সময়ে সে যা প্রত্যক্ষ করছিল, তা যথার্থ রকমের গল্প বলে মনে হচ্ছিল না। সে যখন গল্পের প্রত্যাশা ছেড়ে দিচ্ছিল ঠিক তখনই হঠাৎ...’ সুইডিশ লোকটি আমাকে থামিয়ে দেয়, ‘তোমাকে যথারীতি সতর্ক করে দিয়েছি। দরজায় কোনো টোকা দেয়ার কথা বলবে না।’ আমি গোঁ ধরলাম, ‘আমাকে বলতেই হবে। দরজায় টোকা না পড়লে ভেতর থেকে গল্প বেরিয়ে আসে না।’ পিৎজা সরবরাহকারী লোকটি বলল, ‘বলতে দিন তাকে। তাকে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করুন। তুমি কি চাও দরজায় টোকা পড়ুক? তবে তোমার টোকা পড়ুক দরজায়। ঠিক ততটুকু টোকা দাও যতটুকু হলে একটা গল্প বেরিয়ে আসবে।
[বাংলা ট্রিবিউন থেকে]