হতভাগ্য এই তিন শিশুর ভার নেবে কে

আপডেট: 08:31:25 12/12/2016



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : তানিয়া (১০), হৃদয় (৮) ও মায়া (৫)। ফুটফটে এই তিন শিশু বছর দুই আগে হারিয়েছে বাবাকে। বাবার মৃত্যুর আগ থেকেই মাও হয়ে গেছিল পর। তাদের বাবা মারা যাওয়ার এক বছর আগ থেকেই শিশুদের খবর নিত না তাদের মা। বাবা-মা হারিয়ে এখন বৃদ্ধ দাদা-দাদিই তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। তবে সেই আশ্রয় কতদিন থাকবে।
হতভাগ্য এই তিন শিশুর বাবা মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের মাহমুদকাটি গ্রামের মৃত মনির হোসেন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ব্রেনস্ট্রোকে তিনি মারা যান। মনির ঢাকায় নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। ১৪-১৫ বছর আগে নূপুর নামে ঢাকার একটি মেয়েকে বিয়ে করে মনির। এ দম্পতির তিন সন্তান এই তানিয়া, হৃদয় ও মায়া।
কথা হয় মনিরের বাবা বৃদ্ধ হেদু মেয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, 'ঢাকায় কাজ করা অবস্থায় তিন বছর আগে ব্রেনস্ট্রোক করে মনিরের। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা করানোর পর গ্রামের বাড়ি আনা হয়। বাড়িতে রেখে যশোরের কুইন্স হসপিটালের ডাক্তার মনিরের চিকিৎসা করান। তাতে সে আরোগ্য লাভ করেনি। একবছর ধরে কষ্ট ভোগ করার পর ছেলে মারা যায়। ছেলেকে বাড়ি আনার সময় বড় দুই ছেলে মেয়ে আমার কাছে চলে আসে। আর ছোটটা তার মায়ের সঙ্গে ঢাকায় ছিল। ছেলে মারা যাওয়ার খবর শুনে তার বৌমা বাড়ি এসে তার কোলের বাচ্চাটাকেও রেখে চলে যায়।'
হেদু মেয়া জানান, গত দুই বছর ধরে এই শিশু তিনটি তার কাছে রয়েছে। আগে মাঠে কাজ করতেন। এখন বয়স হয়েছে, তাই কাজ করার শক্তিও হারিয়েছেন। আর্থিক অবস্থা ভাল না। অন্য ছেলেরা যে যার মত কাজকাম করে খায়। এখন নিজের চলতেই তাই কষ্ট হয়, তারপর আবার এই এতিম তিন শিশু।
তিনি জানান,এদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতেই তিনি দিশেহারা হয়ে যান। এখন না হয় তিনি বেঁচে আছে, মরে গেলে তাদের ভার কে নেবে- এই চিন্তাতেই আছেন তিনি। ওই তিন শিশুর মধ্যে বড় দু’জন তানিয়া ও হৃদয় উপজেলার একটি এতিমখানায় আছে। আর ছোট্ট শিশু মায়া স্থানীয় টেংরামারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে পড়ছে।
এতিমখানায় থাকলেও তাদের খরচ দিতে হয় বলে জানান তিনি। এই তিন শিশুর ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
বৃদ্ধ হেদু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই তিন পোতা-পুতনির জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বরের কাছে কত অনুরোধ করেছি, তারা কেউ সাড়া দেয়নি। এখন আমি এদের নিয়ে যাই কই!’
স্থানীয় শিক্ষক ইসমাইল, আবুল ইসলাম ও ফয়েজউদ্দিন জানান, ফুটফুটে এই তিন বাচ্চার মুখের দিকে তাকালে খুব খারাপ লাগে। তাদের কষ্ট দেখলে মায়া হয়। এদের যেমন খাওয়ার কষ্ট, তেমন পোশাকের কষ্ট। তবে বাচ্চাগুলোর মাথা ভাল। একটু সহযোগিতা পেলে তারা লেখাপড়া শিখে বড় হতে পারবে বলে মন্তব্য করেন ইসমাইলসহ উপস্থিত অনেকে।
স্থানীয়রা এই তিন সর্বহারা শিশুর জন্য ইউএনওসহ জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য তায়জেল ইসলাম মিলন বলেন, ওই তিন বাচ্চার কষ্ট আমি বুঝি। আমার পরিষদ থেকে যত সুবিধা দেয়া যায় তা আমি দিচ্ছি। ওদের কথা ভেবে তার এক চাচার নামে দশ টাকার চালের কার্ড করে দিয়েছি।
এই তিন বাচ্চার লেখাপড়ার যত খরচ তা উপজেলা প্রশাসন বহন করবে বলে ইউএনও কামরুল হাসান আশ্বাস দিয়েছেন।

আরও পড়ুন