হরিহরনগরে ঘণ্টাখানেক ভোট দিয়েছেন বিএনপিপন্থীরা

আপডেট: 06:16:53 15/05/2018



img
img
img

স্টাফ রিপোর্টার, হরিহরনগর (মণিরামপুর) থেকে ফিরে : যশোরের মণিরামপুরের হরিহরনগর ইউপি নির্বাচনে বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার দেড়-দুই ঘণ্টার মধ্যেই সব কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে ঘণ্টাখানেক বিএনপির ভোটাররা ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানানো হয়েছে।
সকাল পৌনে দশটায় ইউনিয়নের আলহাজ হানেফ আলী দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে গিয়ে বিএনপির কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। এরপর সাড়ে দশটায় এনায়েতপুর প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে, বেলা ১১টায় মদনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১২টায় খাটুরা মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোয়া ১২টায় মুক্তারপুর গোয়ালবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেড়টায় বড় চেতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌনে দুইটায় ডুমুরখালী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরেজমিন গিয়ে বিএনপির কোনো এজেণ্ট পাওয়া যায়নি। এছাড়া সকাল দশটা থেকে কোনো কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারদের লাইন চোখে পড়েনি। তবে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেশিরভাগ কেন্দ্র ভোটরশূন্য হয়ে যায়।
বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আতিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি নিজে বড়চেতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছিলাম। দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ আমাকে বের করে দেয়। এছাড়া সাড়ে ১১টার পর থেকে আমাদের কোনো এজেন্ট ও ভোটারকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’
ধানের শীষের প্রার্থী গাজী আব্দুস সাত্তারের ছেলে শাহানুর আলম জীবন অভিযোগ করেন বলেন, ‘বেলা ১২টার মধ্যে আমাদের এজেন্টরা কেন্দ্র ছেড়ে দিয়েছে। ভোট শুরু হওয়ার এক থেকে দেড়ঘণ্টা আমাদের ভোটাররা ভোট দিতে পেরেছে। এরপর কেন্দ্রে পুলিশের সংখ্যা বাড়ার পর আর কেউ কেন্দ্রে থাকতে পারেনি। আমাদের অনেক ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেনি। বলেছে, ব্যালট শেষ হয়ে গেছে।’
এদিকে, সকালে ভোট শুরু হওয়ার পরপরই মদনপুর হাইস্কুল কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার কারণে বিজিবি কয়েকজন বহিরাগতকে পিটিয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। ওই কেন্দ্রের কয়েকজন নারী ভোটার অভিযোগ করেন, তারা ভেতরে ভোট দিতে গেলে হাত থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ওই কেন্দ্রে পুলিশি পাহারায় বহিরাগতরা ভোট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নারীরা।
তবে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আকরাম হোসেন খান বলেন, ‘কেন্দ্রের ভেতরে কোনো সমস্যা নেই। ভোটাররা ভোট দিচ্ছে।’
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খাটুরা মধুপুর কেন্দ্রের একটি বুথে বিশৃঙ্খলার কারণে ব্যালট পেপার জব্দ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বেশ কিছু সময় ওই বুথে ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। এরপর ওই কেন্দ্রের আরেকটি বুথে হট্টগোল করার সময় পুলিশ এক যুবককে পিটুনি দেয়। কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার মানিক সরকার ভোট বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে এনায়েতপুর কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নৌকার পক্ষের এজেন্টরা গোপন বুথে ভোটারদের ভোটপ্রদানে হস্তক্ষেপ করছেন। একটি কক্ষে দুটি বুথ থাকলেও ওই কক্ষে নৌকার তিনজন এজেন্টকে দেখা গেছে। অথচ বাইরে পুলিশ বসা থাকলেও তাদের কোনো তৎপরতা নেই। সাংবাদিকদের দেখে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুস সবুর হস্তক্ষেপকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন।
এছাড়া খাটুরা মধুপুর কেন্দ্রে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। পরে প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি কক্ষে ঘুরিয়ে দ্রুত সাংবাদিকদের কেন্দ্র ছাড়তে বলেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হরিহরনগর ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহিদুর রহমান বলেন, ‘কোনো কেন্দ্রে কোনো সমস্যার খবর পাইনি। ভোট গ্রহণ হয়েছে সুষ্ঠুভাবে।’

আরও পড়ুন