হরিহরনগরে ভোট কাল, বিরোধীরা ঘরছাড়া

আপডেট: 09:39:31 14/05/2018



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মঙ্গলবার মণিরামপুরের হরিহরনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।
ইতিমধ্যে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস। সোমবার বিকেলে ইউনিয়নের নয়টি কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট জনবলসহ সরঞ্জামাদি পৌঁছেছে। এবারের নির্বাচনে ইউনিয়নের ১৮ হাজার ৭৭১ জন ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের কথা রয়েছে। যার মধ্যে নারী ভোটার নয় হাজার ৫২৫, পুরুষ নয় হাজার ২৪৬ জন। মঙ্গলবার সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।
হরিহরনগর ইউপি নির্বাচনের ভোট সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য প্রস্তুত উপজেলা নির্বাচন অফিস। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটের মাঠে আসতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দাবি রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহিদুর রহমানের।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ইউনিয়নের নয়টি কেন্দ্রে ৬২টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে একজন এসআই, একজন এএসআইসহ পুলিশের সাতজন এবং ১৭ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য নিয়োজিত থাকবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো অনিয়ম ঠেকাতে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট তৎপর থাকবেন। এছাড়া এক প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৩০ সদস্যের তিনটি এবং পুলিশের পাঁচটি মোবাইল টিম নির্বাচনী এলাকায় কাজ করবে।
এদিকে, হরিহরনগর ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ‘মিথ্যা মামলায়’ গ্রেফতার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থিত ভোটাররা এখন বাড়িঘরছাড়া। ইতিমধ্যে বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পাঁচটি নাশকতার মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির প্রার্থী গাজী আব্দুস সাত্তারের। অভিযোগ করা হচ্ছে, জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর ছিদ্দিকের নির্বাচনী কর্মীদের গ্রেফতারে পুলিশ পালা করে বাড়িবাড়ি যাচ্ছে। গ্রেফতার আতঙ্কে তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে।
ভোটারদের অভিযোগ, তাদের রীতিমতো মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছে পুলিশ। তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কিনা সেই ব্যাপারে শঙ্কিত।
তবে থানার ওসি মোকাররম হোসেনের দাবি, সাধারণ ভোটারদের ভোটের মাঠে যেতে কোনো বাধা নেই। যারা মামলার আসামি, তারা জামিনে থাকলে কোনো সমস্যা নেই। যারা জামিন নেয়নি ভোট কেন্দ্রের বাইরে পুলিশ তাদের দেখলেতো ধরবেই।
হরিহরনগর ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সহিদুর রহমান বলেন, ‘ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেই জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করি, ভোট গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না।’
প্রসঙ্গত, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পাঁচ, সাধারণ সদস্য পদে ২৮ এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নয়জন লড়ছেন।

আরও পড়ুন