হাসপাতালের ওয়াশরুমে পানি নেই ২০ দিন

আপডেট: 04:35:06 22/01/2019



img

মাগুরা প্রতিনিধি : পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় গত ২০ দিন ধরে মাগুরা সদর হাসপাতালের ২৭টি ওয়াশরুম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাইরে থেকে পানি এনে জরুরি কাজ সারতে হচ্ছে রোগীদের। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।
সদর হাসপাতালে ভর্তি আব্দুল মজিদসহ একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের ওয়াশরুমে পানি নেই। পানির অভাবে বাইরে গিয়ে দরকার মেটাতে হচ্ছে। ওয়াশরুমের প্যান ভরে গিয়ে উপচে পড়ছে। গুরুতর রোগীরা প্যানের বাইরেই মল-মুত্র ত্যাগ করছেন। ফলে দুর্গন্ধে হাসপাতালের পরিবেশ মারাত্মক দূষিত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় অনেক রোগী চিকিৎসা না নিয়েই চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে যারা থাকছেন তাদের অনেকেই নতুন করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সেই সঙ্গে ওয়াশরুমের বৈদ্যুতিক বাল্ব না থাকায় অন্ধকারে রোগীরা সমস্যায় পড়ছে।
হাসপাতালের ঝাড়–দার রিজিয়া বেগম জানান, মাগুরা সদর হাসপাতালের রয়েছে নিজস্ব পানি ব্যবস্থাপনা। প্রতিদিন একাধিকবার বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে এখানে পানি উত্তোলন করা হয়। কিন্তু গত ২০ দিন ধরে পাইপলাইনের সমস্যার কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সব ওয়াশরুমই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পানির অভাবে ওয়াশরুম পরিষ্কার করা যাচ্ছে না।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কাশেমুর রহমান বলেন, ‘মাগুরা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য ছয় তলা নতুন একটি ভবন নির্মিত হয়েছে। রোগীদের সেখানে স্থানান্তর না করা হলেও চিকিৎসকসহ প্রশাসনিক সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ১০০ শয্যার পুরনো ভবন ছেড়ে নতুন ভবনে উঠেছেন। এ কারণে পুরনো ১০০ শয্যার তিন তলার ভবনটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এখানে নার্স ও রোগীরা ছাড়া আর কেউ অবস্থান করছে না। যে কারণে তাদের দেখভাল করাসহ প্রশাসনিক কর্যক্রম জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।’
ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মর্নিংটাচের সভাপতি রজব আলী মজনু বলেন, ‘আমরা আমাদের সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে প্রতিদিন সকালে সদর হাসপাতালে রোগীদের দেখভাল করতে যাই। গত ২০ দিন ধরে আমরা এ পানির সমস্যা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কিন্তু কোনো সুরাহ হচ্ছে না।’
মাগুরার সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুন্সী মো. ছাদুল্লাহ বলেন, ‘আমি সদ্য তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পেয়েছি। সবাইকে ডেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছি। শিগগির পানি সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি। হাসপাতালের ভেতরের ড্রেনটি থেকে পানি নিস্কাশনের সমস্যা থাকায় সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। এখানে কাজ চলছে। কাজটি সম্পন্ন হলে সমস্যা থাকবে না।’

আরও পড়ুন