হাসান-খায়রুলের কঠিন সংগ্রাম

আপডেট: 02:00:12 03/04/2018



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : মায়ের পেটে থাকতে বাবা শাহাদত হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। শোকে মুহ্যমান সদ্য বিধবা মা হাসিনা খাতুন স্বামীর ভিটে ত্যাগ করেন কিছুদন পরই। ওঠেন বাপের বাড়ি ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ায়। হাসিনার কোল জুড়ে আসে যমজ দুই সন্তান- হাসান ও খায়রুল।
নতুন করে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাতেন হাসিনা। কিন্তু বিধি বাম। মাত্র ৩২ বছর বয়সে কিডনি, হার্ট জটিলতা ছাড়াও অ্যাজমায় আক্রান্ত হন তিনি।
মায়ের জীবন বাঁচাতে মাত্র দশ বছর বয়সে রিকশার প্যাডেলে পা রাখে দুই ভাই হাসান ও খায়রুল। তিন বছর ধরে তারা ঝিনাইদহ শহরে ভাড়া করা রিকশা চালিয়ে মায়ের হাতে যৎসামান্য টাকা তুলে দিচ্ছে। তাই দিয়ে মায়ের চিকিৎসা ও সংসার চালানো সুকঠিন।
কলাবাগানপাড়ার বস্তিতে বাসন্তি নামে এক নারীর বাড়িতে ভাড়া থাকে অভাবি এই পরিবারটি। ঘিঞ্জি পরিবেশে মা হাসিনা দুপুরের খাবার তৈরি করছিলেন। হাসিনা বেগম তার অসহায়ত্বের কথা জানালেন। বললেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর তিনি কিডনি, হার্ট রোগ ছাড়াও অ্যাজমায় ভুগছেন। দুই ছেলে নিতান্ত শিশু হলেও তারাই সংসারের হাল ধরেছে। হাসিনা আর অন্যের বাড়িতে কাজ করতে পারেন না। ছেলেদের পড়ালেখা করানোর ইচ্ছা থাকলেও জীবনের তাগিদে আর হয়ে উঠছে না। ডাক্তাররা যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন তাতে প্রতি সপ্তায় হাসিনা খাতুনের এক হাজার টাকার ওষুধ লাগে। মায়ের এই চিকিৎসা খরচ ওঠাতেই কাকডাকা ভোরে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে হাসান ও খায়রুল।
যে বয়সে বই হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, সহপাঠীদের সঙ্গে হই হুল্লোড় করে খেলা করার কথা, সেই বয়সে কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত শিশু হাসান ও খায়রুল।

আরও পড়ুন