হিরো বনে গেছেন হাবু

আপডেট: 12:52:27 27/11/2016



img
img

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর) : সত্যজিৎ বিশ্বাস ওরফে হাবু। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা ৪০ বছরের এই যুবক এখন রীতিমতো হিরো বনে গেছেন! প্রতিবেশীরা এতদিন যে হাবুকে চিনতেন, সে হাবু যে এখন তাদের কাছে অন্যরকম। গত দুই দিন ধরে হাবুর বাড়ি পাইকপাড়া গ্রামে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের আসা-যাওয়াই এর কারণ। এখন ‘নতুন’ হাবুর বাড়ি ভীড় করছেন প্রতিবেশী, গ্রামবাসী মায় অন্য গ্রামের মানুষেরাও।
গত ১৩ নভেম্বর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঠকপ্রিয় নিউজপোর্টাল সুবর্ণভূমিতে ‘হাবু ধানে ঝুঁকছেন বাঘারপাড়ার চাষি’  শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এরপর নতুন জাতের এ ধান সম্পর্কে জানতে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার এ ধান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে বাঘারপাড়ায় আসেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ভাগ্যরানী বণিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা। এ সময় তারা এ ধান সম্পর্কে জানতে সত্যজিৎ বিশ্বাস ওরফে হাবুর সঙ্গে দেখা করে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করেন। নমুনা হিসেবে নিয়ে যান হাবু ধান, চাল ও এ অঞ্চলের মাটি। এর পরদিন শুক্রবার এ ধান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে আসেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট- বিনা ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ড. মো. শমশের আলী, বিনা-র ফলিত, গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিভাগের প্রধান ড. এএফএম ফিরোজ হাসান ও বিনা উপকেন্দ্র মাগুরার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সম্পারানী ঘোষ। এ সময় তারা হাবুকে সঙ্গে নিয়ে এ ধান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে মাঠে নামেন। পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক ইমরানের ক্ষেতে এ সময় তারা নমুনা শস্য কর্তন করেন। পরীক্ষা করে তারা এক বিঘা (৫০ শতক) জমিতে ৩২ মণ ফলন দেখতে পান। এরপর তারা মাটির গুনাগুণসহ হাবুর উদ্ভাবিত ধানের রোগ-বালাই পরীক্ষা করে করে দেখেন এবং এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট- বিনা ময়মনসিংহের মহাপরিচালক ড. মো. শমশের আলী সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘ধানটা দেখে ভালোই মনে হলো। এ ধানের ভবিষ্যৎ আছে। কিছু ধান নিয়ে যাচ্ছি সরাসরি পরীক্ষা করবো। এই জাতের উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টাও করবো।’
এ সময় কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন এই বিজ্ঞানী। সবুজ পাতা থাকা অবস্থায় ইউরিয়া সার ব্যবহার থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।