হুইল চেয়ারে বন্দি জীবন

আপডেট: 03:01:27 02/12/2016



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : গোলাম মোস্তফা। বয়স ৭০ এর কাছাকাছি। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন পরপর দুই বার। জনপ্রতিনিধি (মেম্বার) হিসেবে জনগণের পাশেও ছিলেন পাঁচ বছর (১৯৯৬-২০০১)। ওই সময়ে যে মানুষ অসহায় দুখী মানুষের পাশে ছিলেন আজ তিনি নিজেই বড় অসহায়। টাকার অভাবে সুচিকিৎসা নিতে না পারায় তার জীবন এখন হুইল চেয়ারে বন্দি।
তিন বছর আগে কাঁঠালগাছ থেকে পড়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায় সাবেক এই মেম্বারের । তখন ঢাকার সাভারের সিআরপি হাসপাতালে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে দীর্ঘ চার মাস চিকিৎসা নিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন তিনি। এরপর থেকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাকে আরো প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। তাতেও তিনি সুস্থতা পাননি। ডাক্তার দেখাতে গিয়ে ভিটেমাটির অংশ, বাড়ির গাছপালা বিক্রিসহ পুকুর লিজ দিতে হয়েছে তাকে। এখন বিক্রি করার মতো আর কিছু নেই।
এদিকে, সংসারে অসুস্থ স্ত্রী। ঘরে বিবাহযোগ্যা মেয়ে।
সম্প্রতি সুবর্ণভূমির মুখোমুখি হয়ে গোলাম মোস্তফা নিজের অসহায়ত্বের কাহিনি তুলে ধরেন। তিনি উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের কদমবাড়িয়া গ্রামের মৃত শামসুল হক দর্জির ছেলে।
দুর্ঘটনার পর মেম্বারের কোমরের নিচ থেকে দুই পা একেবারেই অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে হুইল চেয়ারই তার একমাত্র অবলম্বন। সবসময় পায়ে জ্বালা-যন্ত্রণা করায় দুর্বিষহ জীবন এখন তার। তবে উন্নত চিকিৎসা পেলে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বলে চিকিৎসকদের ধারণা।
মোস্তফা বলেন, 'যশোরের কুইন্স হসপিটালের ডাক্তার মনিরুল হকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছি। মাসে ৩-৪ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। তাছাড়া, আমার স্ত্রী গত সাত বছর ধরে হার্টের রোগী। তার জন্যও মাসে দুই হাজার টাকার ওষুধ লাগে। টাকার অভাবে দু'জনেরই এখন চিকিৎসা বন্ধের পথে। তাছাড়া ঘরে একটি বিবাহযোগ্য মেয়ে রয়েছে। মাত্র তিন হাজার টাকা ফি যোগাতে না পারায় গত বছর মেয়েটি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারেনি। গরিব হওয়ায় তিন ছেলেকে তেমন লেখাপড়া শেখাতে পারিনি। তারা নিজেরা যা আয় করে তা দিয়ে তাদের কোনো রকমে চলে। আমাকে সাহায্য করতে পারে না।'
অসহায় মোস্তফা তাকে সহযোগিতার জন্য সরকারসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন।