হুসাইনের সঙ্গে গরিব বাবা-মায়ের কান্না

আপডেট: 01:11:45 07/06/2018



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কলারোয়া উপজেলার চেড়াঘাট গ্রামের দিনমজুর হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু হুসাইন। বয়স মাত্র দেড় বছর। কয়েক মাস আগেও শিশুটি ছিল হৃষ্টপুষ্ট। কিন্তু বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে যে কারো হৃদয় কেঁদে উঠবে। বাঁচিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসা পেলে শিশুটি হয়তো সুস্থ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
শিশুটির বাবা হাবিবুর বলেন, তার ছেলে আর দশটা সুস্থ-স্বাভাবিক সন্তানের মতোই জন্ম নেয়। জন্মের ১৮ দিন পর ছোট্ট হুসাইন খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়; যা একটু খায় তা বমি করে তুলে দিতে চায়।
‘ওই সময় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ আবু সাঈদ শুভর কাছে নিয়ে যাই। উনি দেখে-শুনে বলেন, ওর পেটে নাড়ি জড়িয়ে গেছে, অপারেশন করতে হবে। ডাক্তারের কথা মতো অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর অপারেশন করানো হয়। খরচ হয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। ছেলের পেটের নাভি থেকে নাড়ি বের করে সেখান দিয়ে মল ত্যাগের ব্যবস্থা করে দেন চিকিৎসকরা। অপারেশন করার পর আমার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। কিন্ত ৫-৬ মাস যেতে না যেতেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। কোনো কিছু খেতে চাইতো না। শুরু হয় বমি। সবসময় কান্নাকাটি করে। ৫-৬ কেজি ওজনের ছেলে থেকে এখন এক দেড় কেজিতে এসে ঠেকেছে।’
তিনি আরো জানান, এ অবস্থায় সাতক্ষীরার শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামছুর রহমান, ডা. হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তারা শিশুটির চিকিৎসা দিতে চাননি। ঢাকা বা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, শিশুটিকে বাঁচাতে হলে কমপক্ষে আরো দুই বার অপারেশন করাতে হবে এবং তাতে খরচ হবে ৪-৫ লাখ টাকা।
হাবিবুরের স্ত্রী বলেন, ‘এর আগে একটি বাচ্চা হয়ে মারা গেছে। এই ছেলেকে যেভাবে হোক, বাঁচিয়ে তুলতে চাই।’
হাবিবুর একজন দিনমজুর। নিজের জমি-জায়গা নেই। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার নির্বাহ করেন। তার পক্ষে এতো টাকা খরচ করে ছেলের চিকিৎসা করানো কোনোভাবেই সম্ভব না। তাই দেশের দানশীল বিত্তবান মানুষ ও সরকারের সহযোগিতা চান অসহায় পরিবারটি।
সাহায্য পাঠানো যাবে বিকাশ নাম্বার ০১৭৫৭-৪০৫৭২১ তে।