১০ জানুয়ারিতে যশোরে আ. লীগের পৃথক সমাবেশ

আপডেট: 07:34:32 10/01/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। দলের জেলা সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলনের নেতৃত্বে শহরের ঈদগাহ মোড়ে এবং সেক্রেটারি শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বে দড়াটানা ভৈরব শহীদ চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদগাহ মোড়ের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এবং দড়াটানা ভৈরব শহীদ চত্বরের সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য্য।

‘মোশতাক আর জিয়া ষড়যন্ত্র করে হত্যা করে’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ‘খোন্দকার মোশতাক আর মেজর জিয়াউর রহমান ষড়যন্ত্র করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সেদিন হত্যা করেছিল। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে সেদিন তারা বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ কারাগারের মধ্যে আমাদের জাতীয় চার নেতাকেও হত্যা করে। কিন্তু জনগণের দল আওয়ামী লীগ আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। বাংলাদেশকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করতে হবে। এজন্য সবাইকে দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’
দড়াটানা ভৈরব চত্বরে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার।
তিনি বলেন, ‘সামনে আমাদের জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে হবে। কারণ তার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে। বাংলাদেশ এখন বিদেশের কাছে উন্নয়নের মডেল। এই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে তাকে আবারও জয়ী করতে হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী রায়হান, যশোর পৌরসভার মেয়র ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, জেলা যুবলীগ সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, জেলা শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, জেলা তরুণলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

‘বঙ্গবন্ধু দেশের ফেরার পরই বিজয় পূর্ণতা পায়’
সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, '১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় হলেও মানুষের মাঝে আনন্দ ছিল না। ১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরেন, তখন বাঙালি জাতি উল্লাসে ফেটে পড়ে; পরিপূর্ণতা পায় আমাদের বিজয়।'
তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু ছিলেন এমন এক মহান নেতা, যিনি দিনের পর দিন, যুগের পর যুগ মানুষের কল্যাণে সংগ্রাম করেছেন। নিজের দিকে তাকানোর ফুরসত পাননি। এই বাংলার স্বাধীকারের প্রশ্নে যিনি কখনোই আপস করেননি। তারই কল্যাণে আজ আমরা মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারছি।'
১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আইনজীবী সমিতির সামনে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, '১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে বলা হয়েছিল তলাবিহীন ঝুড়ি। আমাদের স্বাধীনতা নস্যাৎ করতে শুরু করা হয় নানামুখি ষড়যন্ত্র। তারই অংশ হিসেবে ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।'
তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে। তার সেই অসমাপ্ত কাজ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুচারুরূপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম; কয়েকটি সূচকে ভারত ও পাকিস্তানকে টপকে আমরা এখন শীর্ষে।'
তিনি বলেন, 'আগে যারা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপেক্ষা করেছে, এখন তারাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়ে প্রভূত উন্নয়নের ফিরিস্তি শুনতে চাচ্ছে।
তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রগতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।'
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হায়দার গণি খান পলাশ, সদর উপজেলা সভাপতি মোহিতকুমার নাথ, সেক্রেটারি মেহেদি হাসান মিন্টু, শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আব্দুস সবুর হেলাল, কামাল হোসেন, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠু, দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা লুৎফুল কবীর বিজু প্রমুখ।

আরও পড়ুন