১০ ডিসেম্বর শত্রমুক্ত হয় গোটা নড়াইল জেলা

আপডেট: 02:13:32 09/12/2016



img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : ১০ ডিসেম্বর নড়াইল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নড়াইলের মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সম্মুখযুদ্ধে পরাজিত করে নড়াইলকে মুক্ত করেন।
দিবসটি পালনের জন্য নড়াইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, চিত্রা থিয়েটারসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দশ লক্ষাধিক মানুষের বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে স্বাধীনতার যে আহ্বান ছিল নড়াইলের মুক্তিপাগল জনতা তা থেকে পিছপা হয়নি। ওই সময় নড়াইলের এসডিও’র বাসভবনকে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের হাই কমান্ডের সদর দপ্তর করা হয়। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে তৎকালীন নড়াইলের এসডিও কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, এমএনএ খন্দকার আব্দুল হাফিজ, আওয়ামী লীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন লোহাগড়া হাইস্কুলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও নড়াইলের সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের এক করে বিশাল বাহিনী যশোর অভিমুখে পাঠিয়ে দেন।
৬ এপ্রিল সকালে পাক হানাদার বাহিনী দুটি জেট বিমান থেকে নড়াইল শহরের ওপর ব্যাপক গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করলে শহর জনশূন্য হয়ে পড়ে। ১৩ এপ্রিল হানাদার বাহিনীর একটি দল নড়াইল শহরের চৌরাস্তায় রেস্টুরেন্ট মালিক মন্টুকে গুলি করে আহত করে এবং হরিপদ সরদার, ভাটিয়া গ্রামের কালু বোস, সরসপুর গ্রামের প্রফুল্ল মিত্রকে ধরে নিয়ে দাইতলা পুলের কাছে গুলি করে ফেলে রেখে চলে যায়।
ওই সময় নড়াইলের জামায়াত নেতা পিস কমিটির সভাপতি মওলানা সোলায়মানের নেতৃত্বে ‘শান্তিবাহিনী গঠিত হয়’। এদের নির্দেশে কয়েক হাজার মুক্তিকামী মানুষকে ধরে এনে জবাই করে হত্যা করা হয়। ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকেই নবগঙ্গা নদীর উত্তর ও পূর্বাঞ্চাল হানাদারমুক্ত হয়ে যায়। লোহাগড়া থানা পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটিকে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তি বাহিনীর কমান্ডাররা আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলে তারা সাড়া দেননি। এর পর ৭ ডিসেম্বর শরীফ খসরুজ্জামান, দবির উদ্দিন, ইউনুস আহমেদ, লুৎফর মাস্টার, আলী মিয়া, লুৎফর বিশ্বাসসহ অনেকগুলো গ্রুপ জোটবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে তিন দিক থেকে লোহাগড়া থানা আক্রমণ করে। প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। মুক্ত হয় লোহাগড়া।
৯ ডিসেম্বর কালিয়া মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা নড়াইলে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। ৯ ডিসেম্বর নড়াইল শহরকে হানাদারমুক্ত করার পরিকল্পনা অনুযায়ী শেখ আজিবর রহমনের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ চিত্রা নদীর পূর্ব দিক থেকে কাভারিং সাপোর্টে অন্য গ্রুপ সদর থানা লিডার শরীফ হুমায়ুন কবীর, সেলিম, হিলু, রানা, আমির হোসেন, রকিবুল ইসলাম বর্তমান নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের দক্ষিণ দিক থেকে আক্রমণ করলে পাল্টা আক্রমণে বাগডাঙ্গা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান শহীদ হন।
শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাংলোতে অবস্থানরত পাক মিলিটারিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা। কিন্তু এক্ষেত্রেও আত্মসমর্পণে অস্বীকার করে পাক বাহিনী। এসময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা চারদিন থেকে প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ শুরুকরলে পাক বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এখানে কয়েকজন পাক সেনা নিহত হন এবং অন্যদের বন্দি করা হয়।
তীব্র শীত উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধারা সারা রাত শহরে বিজয় উল্লাস করতে থাকেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে শহর প্রকম্পিত করে তোলে এবং ১০ ডিসেম্বর নড়াইলকে পাক হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন