১২ লাখ টাকায় প্রধান শিক্ষক!

আপডেট: 08:25:08 17/09/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. দাউদ হোসেন নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন প্রায় আড়াই বছর।
চলতি মাসের ৫ তারিখে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ‘পাতানো নিয়োগ বোর্ডে’ তাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। সোমবার ওই বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে।
তবে, এ বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো তথ্য না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করেন।
‘পাতানো নিয়োগ বোর্ডের’ পাঁচ সদস্য হলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান এ বি এম মোস্তাকিম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. বাকী বিল্লাহ, বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাপসকুমার বসাক, ডিজি প্রতিনিধি সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পক্ষে সহকারী শিক্ষক মমতাজ হোসেন ও পরিচালনা কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন।
পরীক্ষায় অংশ নেন মো. বদিউজ্জামান, মো. দাউদ হোসেন, পরিমলকুমার দাস, শংকরকুমার গাইন, রামপ্রসাদ সানা, এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, অমলকৃষ্ণ সরকার এবং দুখিরাম সরকার।
ওয়াকেবহাল সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেন মো. দাউদ হোসেন। ১৯ জুলাই ২০১৬ তারিখ থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা মো. দাউদ হোসেন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ৫ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাপসকুমার বসাককে দায়িত্ব দেন। প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন নিশ্চিত জেনেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে ১২ লাখ টাকায় নিয়োগ পাওয়ার জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক তাকেই নিয়োগ দেয় নিয়োগ বোর্ড।
এদিকে, যিনি জেলা শিক্ষা অফিসার তিনিই সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়ে নিজেই হয়ে যান ডিজি প্রতিনিধি। তবে তিনি ডিজি প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত না হয়ে তিনিও প্রতিনিধি প্রেরণ করেন এ নিয়োগ পরীক্ষায়।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মো. দাউদ হোসেনের নাম্বারে রিং করা হলে অন্য একজন রিসিভ করান। পরে তিনি ফোন বন্ধ করে রাখেন। এরও পর ফোন করা হলে তিনি ‘ব্যস্ত আছেন’ বলে এড়িয়ে যান।
আশাশুনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘আমি কমিটির একজন সদস্য। আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য সরবারহ করা হয়নি। আমি এখানে যা পাবো তার ওপর নিয়োগ দিয়ে যাবো।’

আরও পড়ুন