১৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে মোচিকের আখ মাড়াই শুরু

আপডেট: 02:46:01 17/12/2016



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের-মোচিকের ২০১৬-২০১৬ আখ মাড়াই মৌসুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রায় ১৫০ কোটি টাকার লোকসান মাথায় নিয়ে শনিবার বেলা ১টায় মিলের ডোঙায় আখ ফেলে এ মৌসুমের আখ মাড়াইয়ের উদ্বোধন করা হয়।
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন।
চলতি মৌসুমে ৯০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৭ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৭.৫%। মিলটিতে এবার ৭৫ মাড়াই দিবস চলবে এবং মিল এলাকায় ৪৯৪১ দশমিক ৫৪ একর জমিতে আখ রয়েছে।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান একেএম দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রশাসক ওয়াহেদ আলী জোয়ার্দার, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাদেকুর রহমান, মোবারকগঞ্জ সুগার মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম নবী ও সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান প্রমুখ। 
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম এই শিল্পে ২০১৫-১৬ আখ মাড়াই মৌসুমে এক কেজি চিনি উৎপাদন করতে খরচ পড়েছে প্রায় ১৪৮.৪৫ টাকা। অথচ প্রতিকেজি চিনি বিক্রি করেছে মাত্র ৪৭ টাকা দরে। পরে গত ২ মাস আগে মিলকর্তৃপক্ষ চিনির দাম বাড়িয়ে ৬০ টাকা করেছে। এই হিসেবে এ মৌসুমে লোকসান গুণতে হয় প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মিলটি শুরুর পর থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে। আর এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শনিবার মিলটি ২০১৬-১৭ মাড়াই মৌসুম উৎপাদন শুরু করে। এদিকে, মিলে প্রায় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার ৬১২৪ মেট্রিক চিনি অবিক্রিত রয়েছে।
মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন জানান, এক কেজি চিনি উৎপাদনে যে খরচ হয় তাতে ৩ ভাগের একভাগ দরে ভোক্তাদের কাছে চিনি বিক্রি করে সরকার। চিনির দাম কম থাকায় সুগার মিলটিতে লোকসান হচ্ছে।
বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিয়ার রহমান জানান, মিলটিকে লাভজনক করতে তারা বিভিন্ন কার্যক্রম করছেন। ইতিমধ্যে সুগার মিলগুলো লাভজনক করতে ৭৮০ কোটি টাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবার ঠাকুরগাও সুগার মিল ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে বায়ো ফার্টিলাইজার, রিফাইনারি সুগার ও ডিসটেলারি কার্যক্রম শুরু করা হবে। বছরের ১২ মাস মিলটি চালু রাখার জন্য খুব শিগগির মোবারকগঞ্জ চিনিকলে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি মিনারেল ওয়াটার ও রিফাইনারি সুগারের কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরে ১৯৬৫ সালে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৮৯ দশমিক ৮১ একর নিজস্ব সম্পত্তির ওপর নেদারল্যান্ড সরকারের সহযোগিতায় মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চিনিকলটির ২০ দশমিক ৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৮ দশমিক ২২ একর জমিতে স্টাফদের জন্য আবাসিক কলোনি, ২৩ দশমিক ৯৮ একর জমিতে পুকুর ও প্রায় ১০০ একর জমিতে পরীক্ষামূলক আখ খামার রয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালীন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৬০ কর্মদিবস আখ মাড়াই চলে এবং প্রথম মৌসুমে ১০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে এক হাজার মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন হয়। লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় পরবর্তী ১৯৬৭-৬৮ মাড়াই মৌসুম থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চিনিকলটি তাদের উৎপাদন শুরু করে।