১৭-তেও চলচ্চিত্রে হতাশার পূর্বাভাস

আপডেট: 01:03:49 05/01/2017



img

কামরুজ্জামান মিলু : ২০১৬ সালটা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য বেশ খারাপ ছিল- এ কথাটা প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিবেশক, হল মালিকসহ এই শাখার প্রায় সকলেই স্বীকার করেছেন। গত বছরে যেসব ছবি সেন্সর সার্টিফিকেট পেয়েছে কিন্তু মুক্তির তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি তারও অন্যতম কারণ হচ্ছে চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা। অনেক প্রযোজক ও পরিচালক আশা করছেন ২০১৭ সালে সুন্দর কিছু ছবি মুক্তি পাবে। চলচ্চিত্রের পরিবেশ আবারো ঘুরে দাঁড়াবে। তবে জানুয়ারির হিসাব করলেই দেখা যাচ্ছে অন্য পরিসংখ্যান।
আসছে শুক্রবার রকিবুল আলম রকিবের ‘মাস্তান পুলিশ’ ও বিপ্লব শরীফের ‘ভ্রান্তি’ মুক্তি পাবে। তারপরের সপ্তাহে মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছে ওয়াকিল আহমেদের ‘কত স্বপ্ন কত আশা’ ও মিজানুর রহমান লাবুর ‘তুখোড়’। তবে এ গড়পড়তা ছবিগুলো কতটুকু ব্যবসা সফল হবে তা নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মনে সংশয় রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, 'যে ছবিগুলো এ মাসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সেসব ছবি দিয়ে হয়তো চলচ্চিত্রের অবস্থার পরিবর্তন হবে না। কারণ তারকার বড় সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে চলচ্চিত্রে হতাশা কমছে না। আগে বড় তারকার একটি ছবি মুক্তি পেলে দেখা যেত আরেকটা বড় তারকার ছবি প্রস্তুত হয়ে আছে। কখনো বড় তারকাদের একসঙ্গে ছবি মুক্তি পেয়েছে এবং একই সঙ্গে তা হিট-সুপারহিট হয়েছে। এখন শাকিব খান ছাড়া কোনো তারকা নেই বললেই চলে। ব্যবসায়িক মন্দা, দর্শকদের অভাব, নিম্নমানের চলচ্চিত্র, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার, শিল্পী সংকট, ভিডিও পাইরেসির আগ্রাসন, আকাশ সংস্কৃতির দাপট, সর্বোপরি চলচ্চিত্র শিল্প-সংশ্লিষ্ট শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষের কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার অভাব থাকায় চলচ্চিত্র শিল্প একটা কঠিন সময় ক্রমান্বয়ে পার করছে। আর এই কঠিন সময়ের মধ্যে নতুন বছরে ছবিগুলো মুক্তি পাচ্ছে। সেন্সর হয়ে আছে ২৫টিরও বেশি ছবি। যেগুলো মুক্তি দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না পরিচালক ও প্রযোজক।'
তবে নতুন বছরে নতুন আশা আছে অনেক পরিচালকের। এই যেমন ১৩ জানুয়ারি ওয়াকিল আহমেদ পরিচালিত ‘কত স্বপ্ন কত আশা’ ছবিটি মুক্তি পাবে। এ ছবির জন্য প্রিমিয়ার শো করার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ''এটি অন্য দশটা ছবি থেকে ভিন্ন। এ ছবিটি নিয়ে আমার আশা অনেক। আমি এর আগে ‘সৎ মানুষ’, ‘প্রেমের অহংকার’, ‘ভুলো না আমায়’ এর মতো দর্শকপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছি। আমার বিশ্বাস, পরী ও বাপ্পির মৌলিক গল্পের এ ছবিটি দর্শক গ্রহণ করবে।''
ওয়াকিল আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করলেও অনেক পরিচালক বেশকিছু কারণে শতভাগ আশাবাদী হতে পারছেন না। চলচ্চিত্রের এই দুরবস্থার নেপথ্যে অনেক কারণের একটি হচ্ছে দর্শক মনে প্রভাব ফেলার মতো তারকার অভাব।
এদিকে ছবি মুক্তির পর দর্শক দেখছে কি দেখছে না তা যাচাই না করে ‘ফেসবুকে’ নিজেদের ছবির পক্ষে জোর প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। অথচ প্রেক্ষাগৃহ বা সিনেমাপাড়া খ্যাত কাকরাইলে যোগাযোগ করা হলে আসছে ভিন্ন সংবাদ। নতুন বছর ২০১৭ কেমন যাবে এটা নিয়ে তাদের মুখ থেকে কোনো আশার বাণী শোনা যাচ্ছে না। এমনভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক প্রযোজক।
প্রযোজক রশিদুল আমিন হলি বলেন, ''অনেক প্রযোজক হতাশাগ্রস্ত হয়ে ছবি মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দিচ্ছেন। সাফিউদ্দিন সাফির ‘মিসড কল’ ছবিটি ৬ জানুয়ারি মুক্তির কথা থাকলেও তা পিছিয়ে মার্চে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারত থেকে গত সপ্তাহে আমদানি করা ছবি ‘অভিমান’ও দর্শক গ্রহণ করেনি। জিৎ ও শুভশ্রীর এই ছবিটিও ব্যবসা করছে না।''
'চলচ্চিত্র ও সিনেমা হল টিকিয়ে রাখার জন্য বেশ চেষ্টা করছেন পরিবেশক, প্রযোজক ও পরিচালক। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। তবে এ থেকে উত্তরণের জন্য টেলিভিশনে বাংলা সিনেমা দেখানোটা বন্ধ করতে হবে। আমার মনে হয়, এটাও ক্ষতির একটা বড় কারণ। এছাড়া সবচেয়ে বড় বাধা চলচ্চিত্র প্রদর্শনে অব্যবস্থা। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সিনেমা প্রদর্শনের জন্য প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা অনেক কম থাকায় কোনো প্রযোজকই এক-দেড়শ প্রেক্ষাগৃহে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সিনেমা প্রদর্শন করে লগ্নিকৃত পুঁজি তুলতে পারছে না। এর ওপর বাড়তি সংকট হিসেবে রয়েছে ভিডিও পাইরেসি।''
সব মিলিয়ে সিনেমা শিল্পে একটা হাহাকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কোনোভাবেই এই সিনেমা শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে না বলে একমত একাধিক প্রযোজনা সংস্থার মালিক।
সূত্র : মানবজমিন

আরও পড়ুন