১৯ বছর পুরলো উদীচী বোমা হামলার

আপডেট: 03:10:48 06/03/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ১৯তম বর্ষপূর্তি আজ ৬ মার্চ।
দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও বিচার পাননি বোমা হামলায় আহত ও নিহতদের পরিবার। সেই ক্ষত নিয়ে তাই দুর্বিষহ জীবন কাটছে তাদের। যাপিত জীবনের দুঃসহ যন্ত্রণার মাঝেও হামলাকারীরা শনাক্ত এবং তাদের শাস্তি হোক- এ প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্তদের। উদীচীসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সংগঠক-কর্মীদের মনেও বিচার না পাওয়ার বেদনা।
আর সরকার পক্ষের আইনজীবী বলছেন, উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। তিনি আশা করছেন, আবার বিচার শুরু হবে দেশজুড়ে তুমুল আলোচিত এই মামলার।
১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ রাতে যশোর টাউন হল মাঠে (মুনশি মেহেরুল্লাহ ময়দান) উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। রাত একটার কিছু সময় পর শক্তিশালী দুটি বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বেশ কিছু মানুষের দেহ। এদের মধ্যে মারা গিয়েছিলেন দশ সাংস্কৃতিক কর্মী। চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করা ছাড়াও বোমার ক্ষত বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন শতাধিক ব্যক্তি।
উদীচীর ওই অনুষ্ঠানে বোমা হামলা ছিল দেশজুড়ে এই ধরনের হামলার প্রথম ঘটনা। অনেকে ধারণা করেন, উদীচীর অনুষ্ঠানে হামলার মধ্যে দিয়ে দেশে জঙ্গিরা তাদের বড় ধরনের অপারেশন শুরু করে। যদিও এই মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় যাদের অভিযুক্ত করেন, তাদের কেউ জঙ্গি নন।
নারকীয় ওই ঘটনার ১৯টি বছর পার হয়ে গেল। প্রিয় সন্তানের শোক ও বিচার না পাওয়ার বেদনায় আজও বোবা কান্নায় দিনপার করেন তপনের মা। সত্তরোর্ধ্ব এই বৃদ্ধা শামছুন নাহার তার ছেলে তপনকে হারিয়েছিলেন ওই ঘটনায়।
শামছুন নাহার বলেন, ‘বান্দার গাফিলতিতে বিচার পাইনি।’
বোমার আঘাতে দুটি পা হারিয়ে অভিশপ্ত জীবনযাপন করছেন শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোড এলাকার নূর ইসলাম নাহিদ। ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে না পারায় ক্ষত পায়ে বাসা বেঁধেছে গ্যাংগ্রিন। যে কারণে গত দুই বছর তিনি বাড়ির বাইরে বেরুতে পারেননি।
এমন কষ্ট নিয়ে জীবনযাপন করছেন আহত আরো অনেকে। তাদের প্রধান চাওয়া- দোষীরা অন্তত চিহ্নিত হোক।
আলোচিত মামলাটির বিচার নিয়ে সরকারের আন্তরিকতায় সন্দিহান উদীচী যশোরের সংগঠকরা। আর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু মনে করেন, এ ঘটনার বিচার না হওয়ায় দেশে পরবর্তীতে বড় ধরনের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটেছে।
এদিকে, সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলছেন, উচ্চ আদালতে শুনানীর জট কাটলে মামলাটির ফের বিচার শুরু হবে।
বোমা হামলার ভয়াবহ সেদিনটি স্মরণে আজ উদীচী যশোর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শহীদ স্মারকে আলোক প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করবে।