২৩-২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠান পাটবাড়ি আশ্রমে

আপডেট: 09:05:45 22/09/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের বেনাপোল পাটবাড়ি আশ্রমে ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের নির্বাণ তিথি মহোৎসবসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারো এই অনুষ্ঠান দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর। দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ভক্তের আগমনে মুখরিত হবে পাটবাড়ি আশ্রম।
হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ি আশ্রমটিতে রয়েছে প্রায় ৬০০ বছরের মাধবীলতা আর সুপ্রাচীন তমালবৃক্ষ। আর এই তমালবৃক্ষের ছায়াতলে ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ি আশ্রম। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন এ আশ্রমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়। এছাড়া ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের জীবনী, ভাগবত আলোচনা, কীর্তন, নির্বাণলীলা আস্বাদন, ভক্তিগীতি ও পদাবলী কীর্তন নিয়ে এখানে পালিত হয় নির্বাণ তিথি মহোৎসব। দেশের ৬৪টি জেলা এবং বিভাগীয় শহর থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাবেশ ঘটে এখানে। তাছাড়া ভারতসহ অন্যান্য দেশের ভক্তরাও যোগ দেন এসব অনুষ্ঠানে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাংশের মতে, জাতিভেদ, কুসংস্কার, অনাচারের মধ্যে যখন হিন্দু জাতি ডুবে ছিল, সেই সন্ধিক্ষণে জাতিকে মুক্ত করতে জন্ম নেন কলির ভগবান গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামে ভক্তরূপে জন্ম নেন হরিদাস ঠাকুর। হরিদাস ঠাকুর ছিলেন প্রকৃত বৈষ্ণবের জ্বলন্ত নিদর্শন এবং দৈন্যের অবতার।
হরিদাস ঠাকুরের ‘সাধনকানন’ নামে খ্যাত বেনাপোল পাটবাড়ি। কথিত আছে, হরিদাস ঠাকুর প্রতিদিন তিন লাখ বার হরিনাম জপ করতেন। চিরপতিত সুন্দরী লক্ষ্মীহীরা হরিনাম মহামন্ত্রে হরিদাস ঠাকুরের কৃপালাভে পরম বৈষ্ণবী হয়ে যান।
পাটবাড়ি আশ্রমে রয়েছে হরিদাস ঠাকুরের জীবনীর ওপর একটি মিউজিয়াম সেন্টার, সুপ্রাচীন তমালবৃক্ষ, মাধবীলতা, সিদ্ধবৃক্ষ; যা থেকে পাওয়া যায় চৈত্র মাসে পাকা কাঁঠাল। ১২-১৪ ফুট মাটির নিচে সুড়ঙ্গে সিঁড়ি বেয়ে গেলে দেখতে পাবেন গীরিগোবর্ধন মন্দির। আশ্রমের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক শ্রীআনন্দ দেবনাথ জানান, প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এখানে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। কোনো কোনো অনুষ্ঠান ২-৩ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। শীত মৌসুমে বিদেশি দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে।
এবার নির্বাণ তিথি উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সুকুমার দেবনাথ জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান পাটবাড়ি আশ্রম। ভক্ত এবং সাধু সন্ন্যাসীদের আগমনে মুখরিত হবে পাটবাড়ি আশ্রম। প্রতি বছর অনন্ত চতুর্দশীতে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। এবার ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্য বছরের চেয়ে এবার ভক্তের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা সুকুমারের।
পাটবাড়ি আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক শ্রীফণীভূষণ পাল জানান, ঐতিহ্যবাহী এ আশ্রমটি আজ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সকল অনুষ্ঠান এখানে স্বাধীনভাবে পালন করা হয়।
আশ্রমের সভাপতি তাপসকুমার বিশ্বাস জানান, দেশ-বিদেশ থেকে যে সমস্ত ভক্ত বা দর্শনার্থী আসেন তাদের এখানে থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা করা হয় আশ্রমের পক্ষ থেকে। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। হিন্দু-মুসলমান কোনো ভেদাভেদ থাকে না এখানে।