৩৯ মুসলিম দেশের সামরিক জোটের কমান্ডার রাহিল

আপডেট: 02:01:18 09/01/2017



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফকে ৩৯ মুসলিম দেশের নতুন সামরিক জোটের কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যে জোটে বাংলাদেশও আছে।
যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ লাখ সৈন্যের পাকিস্তানি বাহিনীকে তিন বছর নেতৃত্ব দেওয়া রাহিলের নাম ঘোষণার পর তার নিজের দেশেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মাদ আসিফ গত শুক্রবার জিও টিভির এক আলোচনা অনুষ্ঠানে রাহিলের এই নতুন নিয়োগের খবর প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, এ বিষয়ে কয়েক দিন আগে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবে ওই চুক্তির বিস্তারিত তিনি জানেন না।
আসিফ বলেন, পাকিস্তান সরকারের সম্মতিতেই গতবছর নভেম্বরে অবসরে যাওয়া জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) রাহিলকে জোটের প্রধান হিসেবে বেছে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বে মূলত সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর এই জোটের প্রথম ঘোষণা আসে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ১৫ ডিসেম্বর জানান, সৌদি আরবের আমন্ত্রণে ‘ইসলামিক মিলিটারি অ্যালায়েন্স টু ফাইট টেরোরিজম’ নামের এই নতুন জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে ওই জোটের অধীনে সামরিক অভিযানে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাবে কি না- সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কখনোই কিছু বলা হয়নি।
৩৯ দেশের এই জোটের সদর দপ্তর হবে রিয়াদে। তবে জোটের কাজের ধরন কেমন হবে, সে বিষয়টিও এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। 
সে সময় সৌদি আরবের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং কৌশল প্রণয়নের কাজ ওই অপারেশন সেন্টার থেকেই হবে। জাতিসংঘ সনদ, ওআইসি সনদ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সনদ ও চুক্তি অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে এর কার্যক্রম। তবে সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের কাছ থেকে এই জোটের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।     
গার্ডিয়ান লিখেছে, সৌদি আরব আর ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বে ভারসাম্য রাখতে পাকিস্তানকে সব সময়ই বেগ পেতে হয়েছে। ধনী দাতা দেশ সৌদি আরবে কাজ করে দেশে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে বহু পাকিস্তানি। আবার প্রতিবেশী ইরানের কাছ থেকে গ্যাস এনে জ্বালানি সঙ্কট মেটানের পরিকল্পনা থেকেও পাকিস্তান সরতে পারেনি।     
সুন্নিপ্রধান সৌদি আরব ও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরোনের বিরোধ পাকিস্তানে জাতিগত সহিংসতা জিইয়ে রাখতেও ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের বিরুদ্ধেই পাকিস্তানে তাদের পছন্দের জঙ্গি দলকে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল রাহিল শরিফকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধান করার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের শিয়া দল মজলিশ ওয়াহদাত-ই-মুসলেমিন। ওই পদ না নিতে রাহিল শরিফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
আবার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মতো কট্টর সুন্নি দল রাহিল শরিফের এই নিয়োগকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হাসান আশকারি রিজভী তাদের সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামিক মিলিটারি অ্যালায়েন্স টু ফাইট টেরোরিজম এখনে কার্যক্রম শুরু করেনি। এ জোট নেটোর মডেল অনুসরণ করবে, না জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর মতো ভূমিকা নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
“সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই জোট বাহিনী কতটা নন-পার্টিজান থাকবে। এখন পর্যন্ত এর নেতৃত্বে আছে গোড়া সৌদি আরব। সুতরাং ইরান, ইরাক বা সিরিয়া এটা ভালোভাবে নেবে না।”
পাকিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযান চালিয়ে জঙ্গিবাদ কমিয়ে আনতে পারায় প্রশংসিত হন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল রাহিল শরিফ। সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রচারের কৌশল বদলে দিয়েও তিনি সাফল্য পান।
পাকিস্তানে জোর গুঞ্জন ছিল, রাহিল শরিফকে ফিল্ড মার্শাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে আরো কিছুদিন সেনাপ্রধানের দায়িত্বে রেখে দেওয়া হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত গত নভেম্বরেই অবসরে যান তিনি।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন