৫০ শয্যা হাসপাতাল চলছে দুই ডাক্তারে ভর করে

আপডেট: 02:59:56 02/04/2019



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকট চরমে পৌঁছেছে। উপজেলার একমাত্র সরকারি এই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ৩৪ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুইজনকে দিয়ে চিকিৎসাসেবা চলছে।
ফলে তিন লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাসের পর মাস এমন অবস্থা চললেও সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাধিকার অনুযায়ী সহকারী সার্জন, মেডিকেল অফিসার, ডেন্টাল সার্জন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গাইনি ও শিশু চিকিৎসক, ১২টি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসারসহ অন্যান্য বিভাগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট পদ রয়েছে ৩৪টি। এরমধ্যে বর্তমানে চারজন কর্মরত আছেন। এদের একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও), দুইজন মেডিকেল অফিসার ও একজন ডেন্টাল সার্জন। ইউএইচও-কে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। আর শুধুমাত্র দাঁত বিষয়ক চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকেন ডেন্টাল সার্জন। ফলে মাত্র দুইজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল সূত্র আরো জানায়, মাত্র দুইজন চিকিৎসক হলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শফিকুল ইসলাম ও মেডিকেল অফিসার বেলাল হোসেন। এই দুই চিকিৎসক নিয়মিত আউটডোর, ভর্তি রোগী এবং জরুরি বিভাগ সামলান। মাঝে মধ্যে আউটডোরে রোগীর সংখ্যা অতিরিক্ত হয়ে পড়লে দুইজন ডাক্তারের পাশাপাশি ইউএইচও-কেও চিকিৎসাসেবা দিতে দেখা যায়। তাদের (ডাক্তার) নিজেদের শারীরিক, পারিবারিক কিংবা অন্য কোনো সাময়িক সমস্যা বা বিশেষ কারণে কোনো ডাক্তার ছুটিতে থাকলে রোগীদের বিড়ম্বনার শেষ থাকে না।
সূত্র আরো জানায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগটি কার্যত মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্টদের (স্যাকমো) দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। জরুরি ও মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপত্রও স্যাকমোরা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আদিত্য, জিল্লুর, মৃত্যুঞ্জয়, রেশমাসহ অনেকে জানান, তার ডাক্তার সঙ্কটের ভুক্তভোগী।
রোগীরা জানান, হাসপাতালে ওয়ার্ডবয়, নার্স দিয়ে চলছে কাটা-ছেড়া ব্যান্ডেজের কাজ। সিজারসহ অন্যান্য অপারেশন রয়েছে বন্ধ। এক্স-রে, প্যাথলজি চলছে কোনো মতে।
এর বাইরে হাসপাতালের প্রধান সহকারী, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ক্যাশিয়ারের পদ শূন্য। স্টোরকিপারের একটি পদ শূন্য থাকায় দুইজন ফার্মাসিস্টের একজনকে দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকলেও কী কারণে তিনি সেবা দেন না, তা রোগীদের অজানা। ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে একজন আজো নিয়োগপ্রাপ্ত হননি। ফিজিওথেরাপি, সেনেটারি কর্মকর্তার একটি করে পদ শূন্য থাকায় এ সংক্রান্ত সেবা বিপর্যস্ত হচ্ছে। ইপিআই, কার্ডিওগ্রাম করার জনবল থাকলেও প্যাথলজি সংক্রান্ত সেবা পেতে রোগীদের ছুটতে হয় বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোতে। ফলে সরকারি হাসপাতালে পাশেই গড়ে ওঠা প্যাথলজি সেন্টারগুলোর ব্যবসা এখন জমজমাট।
চিকিৎসক পদায়নের দাবি জানিয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটে রোগীরা যেমন বিড়ম্বনায় পড়ছেন, তেমনি আমরাও কঠিন সমস্যায় আছি। এখানে ডাক্তার পদায়নের বিকল্প নেই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ডাক্তার ছাড়া আমরা চলতে পারছি না। জরুরিভিত্তিতে এখানে ডাক্তার প্রয়োজন।’
তিনি জানান, ২৬টি নার্স বা সেবিকা পদের বিপরীতে ২৪ জন কর্মরত; দুইজন প্রেষণে আছেন। তাদের দিয়ে ভর্তি রোগীদের প্রাথমিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি বিভাগসহ অন্যখানে ছয়জন মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট কর্মরত আছেন। এছাড়া অফিসিয়াল কাজকর্ম সম্পাদনের জন্যও জনবল সংকট রয়েছে।

আরও পড়ুন