৮৬ টাকা বকেয়ায় ‘জরিমানা’ ১২৮৬ টাকা!

আপডেট: 09:39:19 11/07/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়ম দুর্নীতি বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
বুধবার চৌগাছা পল্লী বিদ্যুতের নানা অনিয়মের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর গ্রাহকরা তাদের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো আচরণের অভিযোগ এনেছেন।
এদিকে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর এজিএম (কম) হুমায়ুন কবীর অফিসের কর্মচারীদের সামনে হুংকার দিয়ে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে পত্রিকায় লিখে কোনো লাভ হবে না। সাংবাদিকদের ক্ষমতা আমার জানা আছে।’
বুধবার উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের জামিরা গ্রামের বিপুল হোসেন জানান, তার মিটার বই নম্বর ৭৫; হিসাব নম্বর ১২৮০।
‘মে মাসের মাত্র ৮৬ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় মিটার থেকে ২১ জুন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এখন আমাকে নতুন সংযোগের জন্য এক হাজার ২৮৬ টাকা দিতে হবে বলে লিখিতভাবে জানিয়েছে চৌগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।’
তিনি বলেন, ‘আমি দিনমজুর। প্রতিদিন অন্যের ক্ষেতে কামলা খাটতে যাই। ২১ জুন পল্লী বিদ্যুতের লোকজন আমার বাড়িতে যায় বকেয়া আদায়ের জন্য। আমার স্ত্রী তাদের জানান, বিল বাকি মাত্র ৮৬ টাকা। আগামীকালই পরিশোধ করে দেওয়া হবে। তবুও তারা কথা না শুনে লাইন কাটতে উদ্যত হলে স্ত্রী আমাকে সংবাদ দেয়। আমি বাড়িতে এসে তাদের হাতে-পায়ে ধরে মাত্র একদিন সময় চাই। এরপরও তারা আমার লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পুনঃসংযোগ নেওয়ার জন্য আমি ১০ জুলাই অফিসে গেলে আমার হাতে এক হাজার ২৮৬ টাকার একটি হিসেব ধরিয়ে দেওয়া হয়।’
এই গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, চৌগাছায় অনেক বড় বড় গ্রাহকের কাছে লাখ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। আর মাত্র ৮৬ টাকার জন্য আমার লাইন কেটে দিয়ে এখন এক হাজার ২৮৬ টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমি এ বিষয়ে আদালতে মামলা করব।’
একই গ্রামের আজিজুর রহমানের মিটার বই নম্বর ৭৫; হিসাব নম্বর ১৩০০। তার মে মাসের বিদ্যুৎ বিল বাকি মাত্র ২৭২ টাকা। তার মিটারটি থেকেও ২১ জুন তারিখে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাকেও নতুন সংযোগ নেওয়ার জন্য এক হাজার ৪৮৬ টাকা দিতে হবে বলে চৌগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস লিখিতভাবে জানিয়েছে।
এই গ্রাহকও আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
‘‘আমি ১০ জুলাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যাই। তখন অফিসে ডিজিএম দেবকুমার মালো অনুপস্থিত ছিলেন। পরে এজিএম (কম) হুমায়ুন কবীরের কাছে যাই। তিনি আমাকে বলেন, ‘তোদের কোনো কথা শুনার টাইম আমার নেই। পারলে টাকা দিয়ে যা। নইলে বাড়ি চলে যা। তোদের বিদ্যুৎ নেওয়ার দরকার নেই। বিল দিতে পারিসনে তোরা বিদ্যুৎ নিয়ে কী করবি?’’
চৌগাছা শহরের চৌগাছা-ঝিকরগাছা সড়কের ছুটিপুর বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী রজব উদ্দিনের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ জুন। অথচ বিদ্যুৎ অফিসের লাইনম্যানরা ২৭ তারিখে তার সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। সেসময় রজব উদ্দিন মেয়েকে ভর্তির কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ব্যবসায়ী রজব উদ্দিন প্রতিষ্ঠানে ফিরে এ অবস্থা দেখতে পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যান।
তিনি বলেন, ‘আমি অফিসে ডিজিএমকে না পেয়ে এজিএম (কম) হুমায়ুন কবীরের কাছে গেলে তিনি আমাকে বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতা আছে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। আপনার কিছু করার থাকলে করেন।’ পরে আমি টাকা জমা দিয়ে পুনঃসংযোগ নিয়েছি।’’
চৌগাছা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এভাবে কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই ওই গ্রাহকের কাছ থেকে পুনঃসংযোগের নামে কমপক্ষে এক হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এই টাকায় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোটা কমিশন পেয়ে থাকেন।
এদিকে, একই অফিসের চৌগাছা পৌর এলাকার ইনসপেক্টর মামুন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্নজনের কাছে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর কোনো সংবাদ যেন প্রকাশ না হয়, এজন্য কয়েক ব্যক্তিকে দিয়ে স্থানীয় কয়েক সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে পল্লী বিদ্যুতের চৌগাছা জোনাল অফিসে গেলে ডিজিএম দেবকুমার মালোকে অফিসে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। আর এজিএম (কম) হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন