৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া হানাদারমুক্ত দিবস

আপডেট: 08:05:30 07/12/2016



img

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : ৮ ডিসেম্বর নড়াইলের লোহাগড়া থানা পাক হানাদারমুক্ত দিবস।
১৯৭১ সালের এই দিনে বীর যোদ্ধারা গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে লোহাগড়াকে হানাদারমুক্ত করে উড়িয়েছিল লাল-সবুজের পতাকা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও লোহাগড়ায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মৃতিসৌধ।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সুশীল সমাজ বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে লোহাগড়া থানার উত্তরাঞ্চল পাক হানাদারমুক্ত হয়। এরপর পাক-হানাদার বাহিনী লোহাগড়া থানায় অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলার পূর্বাঞ্চলের মধুমতি নদীর কালনাঘাটে ৭ ডিসেম্বর রাতে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ৮ ডিসেম্বর গেরিলাযুদ্ধের মাধ্যমে লোহাগড়া থানা আক্রমণ করা হবে। মুজিব বাহিনীর তৎকালীন প্রধান শরীফ খসরুজ্জামান, কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী, লুৎফর রহমান, ঈমান আলী, আবুল হোসেন খোকন, কবীর হোসেন, দিদার হোসেন, হাবিবুর রহমান, মোস্তফা কামাল তাজসহ ৪০-৫০জনের একদল সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ৮ ডিসেম্বর ফজরের আজানের পরপরই পশ্চিম দিক থেকে লোহাগড়া থানা আক্রমণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিকল্পিত আক্রমণে হতচকিত হয়ে পড়ে পাক বাহিনী। তারা অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে থানার পূর্ব দিকে অবস্থান নেয়। শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা ও পাকবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ যুদ্ধ চলাকালে থানা অভ্যন্তরে কোলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান (২০) ও যশোর সদর উপজেলার জঙ্গলবাঁধাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল তাজ (২৮)শহীদ হন।
প্রসঙ্গত, নিহত হাবিবুর রহমানকে লোহাগড়া থানার অভ্যন্তরে এবং মোস্তফা কামাল তাজকে ইতনা স্কুল ও কলেজ চত্বরে সমাহিত করা হয়। ১৯৯০ সালে তৎকালীন ওসির সহযোগিতায় হাবিবুর রহমানের কবরটি টাইলস দিয়ে বাঁধানো হলেও ইতনায় শহীদ মোস্তফা কামালের কবরটি রয়েছে অনাদরে। থানা আক্রমণের সময় মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করে কুখ্যাত রাজাকার ও পুলিশ সদস্য খালেক এবং  নড়াইলের আশরাফ রাজাকারসহ প্রায় ২০ জনকে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গ্রেফতার হন দশ পুলিশসহ ২২ রাজাকার। এসময় মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে নিজেদের আয়ত্বে আনেন। সকাল ৯টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী থানা চত্ত্বরে বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। লোহাগড়া থানা হানাদারমুক্ত হওয়ার খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উল্লসিত জনতা রাজপথে বিজয় মিছিল করে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ফকির মফিজুল হক বলেন, লোহাগড়ায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলকে বারবার লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও আজো সে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ব্যাপারে আগামীতে লোহাগড়ার মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যা যা করণীয় তাই করব।
লোহাগড়ামুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পতাকা উত্তোলন, র‌্যালি, শহীদদের কবর জিয়ারত, স্মৃতিচারণ সভা ও দোয়া মাহফিল।

আরও পড়ুন