‘আদালতের আদেশ সরকারের ইচ্ছায়’

আপডেট: 02:48:44 14/03/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া চার মাসের জামিন স্থগিত করে আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, তাতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে তার দল বিএনপি।
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ জামিনের আদেশ রোববার পর্যন্ত স্থগিতের পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব এ অভিযোগ করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া যেন দ্রুত কারাগার থেকে বের হতে না পারেন, সে জন্য ছলচাতুরী করছে সরকার। এমনকি তাকে ওকালতনামায় পর্যন্ত সই করতে দিচ্ছে না। খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, তাতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে, যাতে তিনি কারাগার থেকে বের হতে না পারেন।’
‘সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ছাড়া আবার একটি নির্বাচন করতে চক্রান্ত করছে। সে জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মূলত সরকার একটা ছক তৈরি করেছে কীভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কারাগারে আটকে রাখা যায়,’ যোগ করেন মির্জা ফখরুল।
সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেছেন আদালত।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার এক আবেদনের শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত; বরং এ বিষয়ে শুনানির জন্য আজ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন চেম্বার আদালত। সেখানেই দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার পর্যন্ত জামিন স্থগিতের আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
বর্তমান সরকার বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এসব ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আর সে জন্য তাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। এখন তার জামিন দিতেও নানা গড়িমসি করছে।’
‘বিগত সেনা সমর্থিত কেয়ারটেকার সরকারের সময় খালেদা জিয়ার নামে চারটি মামলা হয় আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার চারটি মামলা ৩৬টি হয়েছে। আর শেখ হাসিনার ১৫টি মামলার একটিও নেই। এদিকে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলায় ১২ লাখ আসামি করা হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জুলুম-নির্যাতন করছে যাতে বিরোধীদলগুলো কোনো কথা বলতে না পারে। তাহলে তাদের ক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হবে।
এ সময় মির্জা ফখরুল পুলিশ হেফাজতে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। তিনি একই সঙ্গে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন মির্জা ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মীর নাসির, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম, এ জে মোহাম্মদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রমুখ।
সূত্র : এনটিভি

আরও পড়ুন