‘এখন খালি চোখে কোরান পড়তে পারি’

আপডেট: 07:43:12 19/01/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : ৭০ বছরের তবিবুর রহমান বললেন, ‘আমি অন্ধ বলে অন্ধকারেই ছিলাম। আদ-দ্বীন আমাকে বাড়ি থেকে বাসে করে এনে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করে দিয়েছে। এখন আমি খালি চোখে কোরান শরিফ পড়তে পারি। সব দেখতে পারি। নিজেকে মানুষ ভাবতে পারি।’
মণিরামপুর উপজেলার কুয়াদা গ্রামে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক ছানি অপারেশনের চক্ষু ক্যাম্পে এভাবেই তবিবুর রহমান তার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করছিলেন।
মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলরি অথোরিটির ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু মুখার্জী এই ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ নয় মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি ৭৯৮টি এনজিও তদারক করি। এর মধ্যে প্রথম ৫০টির তালিকায় আদ-দ্বীন আছে। আমি তাদের মানুষের জন্য কল্যাণকর কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। অন্য এনজিওর কাছে আমার আহ্বান, তারা যেন আদ-দ্বীনকে অনুসরণ করে।’
এই ক্যাম্পে আজ শুক্রবার বিনামূল্যে ৭৫ জনের ছানি অপারেশন করা হয়। এর মধ্যে ৪০ জনকে লেপ প্রদান করা হয়।
পরে আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজে সংগঠনের কর্মীদের সন্তান ১৪৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে দশ হাজার টাকা করে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়া হয়।
অধ্যাপক আবেদ আলীর সভাপতিত্বে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন, পরিচালক আব্দুল হক, ডা. মিনহাজুর রহমান, ডা. প্লাবন বসু।
এছাড়া বিনামূল্যে মেডিকেল পড়ার সুযোগ পাওয়া হতদরিদ্র সুমাইয়া, আলরিমা ও ফাতেমা তাদের স্বপ্ন পূরণের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।
ডা. শেখ মহিউদ্দিন এই দুটি জনহিতকর অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা শুধু মানুষকে ঋণ দিই না, সুখে-দুখে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। গরিব অসহায়দের ডাক্তার হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিই। আমাদের আহ্বান অন্যরাও এমন কাজে অংশ নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’