‘কুলের আকার দেখে আশ্চর্য্য হচ্ছি’

আপডেট: 06:38:25 25/01/2019



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে দেশের কৃষি। টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে। এরকমই এক প্রযুক্তি বাউকুলে পলিথিনের ব্যবহার কুল চাষে নতুন সাম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।
এই পদ্ধতিতে ৬-৭টি কুলের ওজন হচ্ছে এক কেজি। দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। সাধারণভাবে উৎপাদিত বাউকুল কেজি বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৭০ টাকায়। আর পলিথিন পদ্ধতিতে উৎপাদিত কুল প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি-চাঁদপাড়ার মাঠে হারুনার রশিদ নামে এক কৃষক বাউকুলে পলিথিন ব্যবহার করে এরকমই সফলতা পেয়েছেন। হারুন কালীগঞ্জ উপজেলার সানবান্ধা গ্রামের মৃত শাহাদত হোসেনের ছেলে। কুলে পলিথিন ব্যবহারের ফলে কোনো কীটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলে বিষমুক্ত এই কুল সাধারণ বাউকুলের থেকে মিষ্টি ও নরম। নিরাপদও। যে কারণে বাজারে চাহিদাও বেশি।
হারুনার রশিদ বলেন, ‘আমি গত দশ বছর ধরে বাউকুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির কুল ও পেয়ারার চাষ করে আসছি। এবছর আমার সাড়ে চার বিঘা জমিতে বাউকুলের চাষ রয়েছে। আমার মনে হয়েছিল পেয়ারায় পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহার করে যদি ভালো উৎপাদন হয়, তাহলে কুলেও পলিথিন ব্যবহার ভালো ফলন দিতে পারে। এমন চিন্তা থেকে এবছর আমি প্রথম কুলে পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহার করি। কিছুদিনের মধ্যে খুব ভালো ফলাফল লক্ষ্য করি। তারপর সমস্ত বাগানে পলিথিন ব্যবহার শুরু করেছি।’
পলিথিন বাধা, কুল সংগ্রহ ও পরিচর্যার কাজে প্রতিদিন দশজন শ্রমিক কাজ করেন বলে জানান এই সফল কৃষক। বলেন, ‘এখন পলিথিনে মোড়া কুলের আকার দেখে আমি নিজেই আশ্চর্য্য হচ্ছি।’
প্রতিদিন বাগান থেকে ১০ থেকে ১২ মণ কুল সংগ্রহ করছেন হারুন। যে সব কুল ৮০ টাকা কেজি দরে ঢাকার পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। প্রথম কয়েকদিন ১০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছেন।
তিনি আরো বলেন, এক বিঘা জমিতে সাধারণ পদ্ধতিতে উৎপাদিত বাউকুল গড়ে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা যায়। খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু সামান্য কিছু বেশি খরচে পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহার করায় এবছর তার লাভ বাড়বে বলে আশা করছেন হারুন।
কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ কৃষক হারুনার রশিদকে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। বিকশিত বাংলাদেশের কর্মী আনোয়ারুল ইসলাম টিটু বলেন, বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কুল চাষের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৪০০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট, ২২টি ফেরোমন ট্রাপ, ফসল সংগ্রহের জন্য প্লাস্টিকের ত্রিপল ও বাস্কেট দেওয়া হয়েছে। এখন সংগ্রহ করা কুল ঢাকার বাজারে বিক্রির কাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন