‘কেউ আমার লাশ নিতে আসবে না’

আপডেট: 03:26:37 07/03/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে নুরজাহান ওরফে নুরি ওরফে মিতা ওরফে রিনা (৪৩) নামে ত্রিশ বছর সাজাপ্রাপ্ত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল পৌনে আটটার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নুরি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। (কয়েদি নম্বর ৪৭৮৭/এ)। তিনি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল মাজেদ মোল্যার মেয়ে। এর আগে তিনি যশোর মাড়োয়ারি মন্দির-সংলগ্ন ‘পদ্ম ভিলা’র পতিতা সর্দারনী সুধার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চার নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ ফিরোজা পারভিন ইন্টার্ন ডাক্তার মোহাম্মদ কওসারের উদ্ধৃতি দিয়ে সুবর্ণভূমিকে জানান, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অবস্থায় নুরিকে গত ৫ মার্চ সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ বুধবার সকাল পৌনে আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থার তিনি মারা যান।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু তালেব সুবর্ণভূমিকে জানান, নুরি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার নারী ও শিশু পাচারের একটি মামলার আসামি ছিলেন। (মামলা নম্বর-০১/১১.১১.৯৭। বাগেরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০১২ সালে তাকে ৩০ বছর কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাস সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। ওই মামলায় নুরি প্রথম থেকেই কারাগারে ছিলেন। তিনি শ্বাসকষ্ট, হার্ট ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। প্রথমে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া ছাড়াও চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বহুবার। ডাক্তাররা বলেই দিয়েছিলেন, তাকে বাঁচানো যাবে না।
জেলার জানান, তারপরেও বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে অনেকবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে । সবশেষ গত সোমবার সন্ধ্যায় নুরির অবস্থা গুরুতর হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ সকালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
জেলার বলেন, ‘‘নুরি আমাকে বলে গেছে, ‘স্যার আমি মারা যাবার পর কেউ আমার লাশ নিতে আসবে না। আপনি জেলখানার পাশে আমাকে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। কেউ যেন আমার লাশ না দেখে।’’

আরও পড়ুন