‘জঙ্গি আশঙ্কায় আছি, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ’

আপডেট: 04:30:04 06/10/2016



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, আমরা এখন একটি বিষয়ে আশঙ্কার মধ্যে রয়েছি; সেটি হচ্ছে জঙ্গি হামলা। তবে, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এ বিষয়ে বেশ সতর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বে মানবসভ্যতা অনেক উঁচু স্তরে পৌঁছে গেছে, আদিম প্রবৃত্তি যখন কেউ গ্রহণ করছে না- ঠিক সেইসময় কিছু মানুষ সেই প্রবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে খুন-খারাবির মাধ্যমে জাতিকে বিশ্বদরবারে সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।’
মন্ত্রী বৃহস্পতিবার যশোর শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে ‘শিক্ষার উন্নত পরিবেশ, জঙ্গিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
সিলেটে কলেজছাত্রী নার্গিসকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে আহত করার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমরা আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে চাই। ছেলেদেরও ভালো করতে চাই। এজন্যে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম সর্বোপরি প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দ্রুত মেয়েদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যে, বখাটে, খারাপ আর সমাজবিরোধীদের জন্যে আইনি ব্যবস্থা কঠোর করার জন্যে সামাজিক চেতনা, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।;
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সমাজ থেকে এইসব খারাপ কাজ রুখে দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
জঙ্গিবাদের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের নামে কতিপয় জঙ্গি-সন্ত্রাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে বাড়তি একটা সঙ্কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তারা সেইসব দেশের মহাসর্বনাশ করে দিয়েছে। আমাদের সামনে আফগানিস্তান, সেই রোগে আক্রান্ত পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া প্রভৃতি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রগুলো উদাহরণ হয়ে আছে। তাদের খুন-খারাবি, বোমা-সন্ত্রাসের কারণে সেসব দেশ এখন ধ্বংসের পথে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশের অস্তিত্বও হুমকির মুখে।’
তিনি বলেন, ‘কেবল মুসলিমপ্রধান দেশগুলো নয়; জঙ্গি হামলার শিকার আজ ফ্রান্স, জার্মানি, আমেরিকাও। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের দেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে না। কেননা আমাদের দেশে সেইরকম কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। কিন্তু গুলশানে হোটেল আর শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে।’
‘তাদের টার্গেট মূলত আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেন বাধাগ্রস্ত হয় সেদিকে’ মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, ‘গুলশানে যারা হামলা করলো বা যারা খুন হলেন- এরা কেউ কাউকে চেনে না। কারো সঙ্গেই কারো শত্রুতা ছিল না। কিন্তু কেন তাদের মারা হলো? কারণ, এই বিদেশিরা হচ্ছেন আমাদের দেশে ব্যবসায়ে বিনিয়োগকারী এবং আমাদের দেশের পণ্যের ক্রেতা। বিদেশিরা যেন ভয় পায়, তারা যেন এদেশে ব্যবসা করতে না আসে- সেকারণেই মতলববাজরা আমাদের তরুণদের মাথা ঘুলিয়ে দিয়েছে। তাদের এই হত্যা আর বোমা মারার কৌশল শিখিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শোলাকিয়ায় যারা পুলিশকে গুলি করে হত্যা করে- তাদের পোশাক ছিল পানজাবি-পাজামা। কিন্তু ভেতরে জিন্স প্যান্ট, এবং সেই প্যান্টের ভেতরে বন্দুক, দা, বোমা রাখার বড় বড় পকেট। আসলে যারা ইসলামকে ব্যবহার করছে, তাদের বাইরেরটাই ইসলাম- আর ভেতরটা ওইরকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ভরা।
জঙ্গি সন্ত্রাসীদের করুণ পরিণতির কথা উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘প্রায় তিনমাস হতে চললো- গুলশান বা শোলাকিয়ায় নিহত জঙ্গিদের মরদেহ তাদের পরিবার নেয়নি। পিতা-মাতার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে তাদের সন্তান। অথচ, তারা এমন ঘৃণিত কাজ করেছে যে, তাদের বাবা-মা সেইসব সন্তানের লাশ দাফনের জন্যেও নেয়নি। অবশেষে বেওয়ারিশ হিসেবে সেগুলো দাফন করেছে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম।’
মতবিনিময়সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদ।
এতে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা সচিব এএস মাহমুদ, অতিরিক্ত শিক্ষা সচিব অশোক বিশ্বাস, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. ওহিদুজ্জামান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুস সামাদ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিল্লাল হোসেন, যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন