‘জনসেবা করতে এসে জীবনটাই না হারিয়ে বসি’

আপডেট: 02:42:45 24/12/2017



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : প্রায় ৬০ বছর আগে নির্মিত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে কপিলমুণি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। দ্বিতল ভবনটির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানের পলেস্তরার বড় বড় অংশ খসে পড়ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে বাঁশ দিযে ঠেকিয়ে রেখেছে।
দক্ষিণ খুলনার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কপিলমুণির প্রাণকেন্দ্রেই অবস্থিত ইউপি ভবনটি। এখানে প্রতিদিন বিচারিক কার্যক্রম, জিও-এনজিও’র সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কাজে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।  কিন্তু ভবনটির যা দশা দাঁড়িয়েছে, তাতে যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়ে প্রাণহানি ঘটাতে পারে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ভবনটিকে অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করলেও এটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরিষদ সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালে পাকিস্তান আমলে কপিলমুণি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি তৈরি করা হয়। এর মধ্যে পার হয়ে গেছে ৫৭টি বছর। বর্তমানে ভবনটির প্রতিটি দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। খসে পড়ছে ছাদসহ বিভিন্ন স্থানের পলেস্তরা। দোতলার মেঝের অধিকাংশ জায়গার কংক্রিট উঠে সেখানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্তের। বেরিয়ে পড়েছে মরিচায় খাওয়া রড। জানালার কাঠে ঘুণ ধরেছে। বিভিন্ন স্থানে পটি মেরে কোনো রকম টিকিয়ে রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় তলার অবস্থা আরো নাজুক। কক্ষটিকে বাঁশের ঠেকা দিয়ে কোনো রকম টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
২০০৬ সালে ভবনটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। একইসঙ্গে নতুন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত ৭ নভেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান কপিলমুণি ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। এ সময় পরিদর্শন বইয়ে তিনি ‘ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ এবং ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী’ বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কথাও বলেন তিনি।
পরিষদের চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়ার্দার বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’
কপিলমুনি বণিক সমিতির সভাপতি এম বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘যেকোনো সময় জরাজীর্ণ ভবনটি ধসে বড় ধরনের প্রাণঘাতি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ করা দরকার।’
ইউপি সদস্য শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘জনসেবা করতে এসে কোন সময় না নিজের জীবনটাই হারিয়ে বসি।’
প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনা এড়াতে ২০১৬ সালের ১৫ মে কপিলমুণি ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম সভাটি পরিষদ মিলনায়তনের পরিবর্তে সামনের রাস্তার ওপর খোলা আকাশের নিচে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন