‘জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কেশবপুর’

আপডেট: 02:08:18 08/07/2018



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরকে জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত টিম। কুকুর ও হনুমানের অবাধ বিচরণ এবং তারা প্রায়ই মানুষের ওপর চড়াও হওয়ায় এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২৯ জুন কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকার ২৫ জনকে কুকুরে কামড়ে আহত করে। আক্রান্তরা ওইদিন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার শেখ আবু শাহীন বলেন, গত ছয় মাসে কুকুরের কামড়ে উপজেলায় ২৯২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সর্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
একদিনে বিপুল সংখ্যক মানুষকে কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা গণমাধ্যমে আসে। এর পর গত শনিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যয়ের একটি তদন্ত টিম কেশবপুরে আসে। তারা আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্থানীয় লোক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান ডাক্তার ইকরামুল হক বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ গত ৩০ জুন  গণমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করার জন্য রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখাকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক আমরা রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তদন্ত কমিটি কেশবপুরে তদন্ত করতে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘আক্রান্তদের সঠিকভাবে চিকিৎসা করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি রোগীর খোঁজ-খবর নিয়েছি। তারা সুস্থ রয়েছে। কেশবপুরে প্রচুর হনুমান ও কুকুর থাকার কারণে এখানকার জনগোষ্ঠী জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। এই অবস্থায় এখানে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন সরবরাহ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আগামী দিনে নিয়মিত মাসিক চাহিদা অনুযায়ী ভ্যাকসিন সরবরাহের চেষ্টা করা হবে।’
স্থানীয় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে আগামী দিনে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করার আশ্বাস দেন তিনি।
ডা. হক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট উদ্ধৃত করে জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার ৪৫০ থেকে দুই হাজার লোক জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
তদন্ত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার দিলীপকুমার রায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তদন্ত কমিটির সদস্য ডাক্তার ফজলে রাব্বী, ডাক্তার নিজামুল ইসলাম, স্থানীয় ডাক্তার শেখ আবু শাহিন, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইন প্রমুখ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. উম্মে রোমান সিদ্দিকী শাম্মী  বলেন, ‘জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ না করতে পারায় উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা হয় না । তারপরও মহাপরিচালক স্যারের নির্দেশে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভ্যাকসিনের চাহিদা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন