‘তোতাও সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারে’

আপডেট: 06:08:16 04/12/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সারাদেশে সুষম উন্নয়ন কাজ করছে। বর্তমান সরকারের আমলে যশোর সদর উপজেলায় ২৬টি স্কুলে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ শুরুর অপেক্ষায় আছে আরো ৬০ স্কুল ভবন। আগামী এক বছরের মধ্যে যশোরের শতভাগ মানুষ যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পান সেজন্য কাজ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘ভৈরব নদ সংস্কারে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যশোরে আইটি পার্ক নির্মাণ শেষ হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই তা উদ্বোধন করবেন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কয়েকশ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই সরকারের মেয়াদে শুধু যশোর সদর উপজেলায় সড়ক নির্মাণে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এভাবে প্রতি সেক্টরে বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার যশোরের উন্নয়ন করছে। ভবিষ্যতে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।’
আজ সোমবার (৪ ডিসেম্বর) যশোর কলেজের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী নাবিল আহমেদ এসব কথা বলেন।
এর আগে পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে তিনিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা কলেজের রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
যশোর কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. কাজী আনিস আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধবচন্দ্র রুদ্র প্রমুখ।
বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
এর আগে সকালে কলেজটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে শহরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি টাউন হল ময়দান থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে সেখানে একটি তোতা পাখিও সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নোট আর গাইডনির্ভর এই শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রকৃত শিক্ষা অর্জন অসম্ভব। আর এর সাথে বর্তমানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোনো সম্পর্ক থাকছে না। ফলে দিন দিন দেশের শিক্ষার মান কমছে। এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ আমাদের খুঁজতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী আনিস আহম্মেদ বলেন, ‘একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অসংখ্য মানুষের শ্রম, মেধা ও অধ্যবসায় প্রয়োজন হয়। তাই এসব সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়তে যারা অবদান রাখেন তাদের স্মরণ করতে হবে। আর তাদের শ্রদ্ধা জানানোর একমাত্র উপায় যে উদ্দেশ্যে তারা প্রতিষ্ঠানটি গড়েন তা বাস্তবায়ন করা। একই সাথে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি যারা স্বাধীন করেছেন তাদের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা ৭১ পরবর্তী প্রজন্মের কর্তব্য।’

আরও পড়ুন