‘ধর্ষিত’ চার শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা, অভিযুক্ত লাপাত্তা

আপডেট: 03:38:47 02/05/2019



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে আলোচিত প্রাইমারি স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত আমিনুর রহমানকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে, ধর্ষণের ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক ছাত্রীর বোন বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা (নম্বর-১/০১.০৫.১৯) করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত চার শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা যশোর জেনারেল হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযোগ, যশোর শহরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা করেন একই এলাকার আমিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দরা ১ মে এলাকায় বিক্ষোভ করেন। ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত আমিনুর রহমানকে পালিয়ে যান।
ধর্ষণ ঘটনায় এক স্কুলছাত্রীর বোন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর এলাকার হানেফের ছেলে আমিনুর রহমান। তিনি যশোর শহরের খড়কী এলাকার পীরবাড়ির পাশে এহসানুল হকের বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন।
থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ এপ্রিল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আমিনুর রহমান আম ও ফুল দেওয়ার কথা বলে ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে স্কুলের পাশে এহসানুল হকের বাগানবাড়ির বাউন্ডারির মধ্যে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
একইভাবে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন সময় স্কুলের আরো তিন ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এছাড়া গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে আরো দুই ছাত্রীকে ওই বাগানবাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় মেয়েরা চিৎকার দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হায়াৎ মাহমুদ বলেন, মামলার ভিকটিম চারশিশুকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আরিফ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, চার শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে।
গত ২৮ এপ্রিল স্কুলের পরীক্ষায় পাঁচ শিক্ষার্থী অংশ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পারে। তারা এ বিষয়ে খোঁজ নিতে স্কুলের প্রধানশিক্ষককে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে। ১ মে এই কমিটির সভা চলাকালে স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এদিকে, এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ওহিদুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্কুলে যান। তিনি প্রধানশিক্ষক ফেরদৌসী আরার সঙ্গে কথা বলে তাকে লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন।
স্কুলের প্রধানশিক্ষক ফেরদৌসী আরা জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নানাভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।
কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) সমীরকুমার সরকার বলেন, অভিযুক্ত আমিনুর রহমানকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে রয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানিয়েছেন, স্কুলের পক্ষ থেকে তাকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন