‘পাতানো লটারিতে’ নয় কোটি টাকার টেন্ডার ভাগাভাগি!

আপডেট: 06:27:28 10/01/2017



img

সামিউল মনির, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : পাতানো লটারির মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলায় প্রায় নয় কোটি টাকার কাজ ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে সোমবার দুপুরে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এসব কাজের জন্য লটারি অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন অংশে ২৭টি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের জন্য গত ডিসেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর দরপত্র কেনা এবং ২৯ ডিসেম্বর জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়।
মাহমুদুল হাসান, নুর মোহাম্মদসহ ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন, বিধি মোতাবেক দরপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর লটারির আগে শিডিউল কেনা সব ঠিকাদারের জ্ঞাতার্থে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জাফর রানা পূর্ব নির্ধারিত ৩০-৩২ জন ঠিকাদারকে নিয়ে আকস্মিকভাবে ৯ জানুয়ারি লটারির ব্যবস্থা করেন।
বঞ্চিত ঠিকাদারদের অভিযোগ, গত ৮ জানুয়ারিও প্রকল্প কর্মকর্তা তাদেরকে নিশ্চিত করেন যে, লটারির আগেই সবাইকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। কিন্তু তিনি কথা না রেখে পূর্ব নির্ধারিত ঠিকাদারদের নিয়েই গোপনে ওই লটারির ব্যবস্থা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ২৭টি কাজের জন্য সর্বমোট দুই হাজার ৭৩৪টি দরপত্র কেনেন ১২২ জন ঠিকাদার। প্রতিটি দরপত্র দেড় হাজার টাকা দরে কিনে তারা দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ব্যাংক ড্রাফটসহ জমা দিলেও বিশেষ কারণে লটারি নিয়ে লুকোচুরি করা হয়েছে।
এমন আশংকার কথা তারা আগেভাগেই জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলেন বলে জানান ঠিকাদাররা।
এদিকে প্রকল্প অফিস থেকে বলা হয়েছে, ২৭৩টি দরপত্র বিক্রি হলেও এর মধ্যে প্রায় ১০টি নানা অসঙ্গতির কারণে বাতিল হয়।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প অফিসারের যোগসাযশে সিন্ডিকেট করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাড়ে নয় কোটি টাকার ২৭টি কাজ হাতিয়ে নিয়েছে।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জাফর রানা বলেন, ‘সবাইকে ফোনে সংবাদ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম বলেন, ‘সবাইকে হয়তো ডাকা যায়নি তবে আমি এবং শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি লটারিস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’

আরও পড়ুন