‘ফণী’র বিপদ কেটেছে, সারাদেশে ঝড়োহাওয়া

আপডেট: 01:07:16 04/05/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ভারতের ওডিশায় আঘাত হানার ২১ ঘণ্টা পর আজ শনিবার সকাল ছয়টার দিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অতিক্রম করে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী। আরো উত্তর দিকে চলে গিয়ে সকাল নয়টার দিকে রাজবাড়ী জেলা ও আশপাশের অঞ্চলে অবস্থান করছিল।
প্রথম আলো জানায়, সমতল অঞ্চলে উঠে আসার সঙ্গে সঙ্গে মেজাজি ফণীও দুর্বল হতে থাকবে এবং পরিণত হবে স্থল নিম্নচাপে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের মধ্যে ফণী নিম্নচাপে পরিণত হবে।
তবে দুর্বল হলেও ফণীর কবল থেকে সহজে ছাড় পাবে না পুরো বাংলাদেশ। উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার পথে বৃষ্টি ঝরাতে থাকবে। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির মাত্রা কমে আসবে।
আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, সমতলে আসার পর ফণী উত্তরাঞ্চলে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের দিকে চলে যাবে। পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। এরপর আরো দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে।
আজ দেখা যাচ্ছে, ফণীর কারণে সারা দেশেই প্রচণ্ড বেগে বাতাস বইছে। উপকূলীয় অঞ্চলে যেমন বাইছে, তেমনি করে দেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলেও বাতাসের তীব্রতা রয়েছে। স্থল নিম্নচাপে পরিণত হলে বাতাসের এই তীব্রতা কমে আসবে।
ফণীর প্রভাবে আজ ও আগামীকাল রোববার বৃষ্টি হবে বলে উল্লেখ করে আরিফ হোসেন বলেন, ফণী যখন সাতক্ষীরা বা খুলনার দিকে ছিল, তখন ওই সব অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। আবার উত্তর–পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায়ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ফণী যত উত্তরে যাবে, ততই সেসব এলাকায় বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। দেখা যাবে, শেষ দিকে সিলেটের দিকে বৃষ্টি ঝরা শুরু হবে।
উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গেলেও ফণীর প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের হাওর এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাবে। এ কথা জানান বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া । তিনি বলেন, ফণীর কারণে উত্তর ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে বৃষ্টি হবে। এ কারণে সিলেট ও আশপাশের হাওর এলাকার পানি বৃদ্ধি পাবে। তবে আপাতত অন্যান্য এলাকায় বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।
বাংলা ট্রিবিউন জানায়, ঘূর্ণিঝড়  দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের স্থলভাগ হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ করায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। আজ শনিবার সকাল ছয়টায় ‘ফণী’ খুলনা-সাতক্ষীরা ও যশোর অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে। পরে তা মধ্য অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যত সময় যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা ততই কমে যাচ্ছে। 
গতকাল শুক্রবার সকালে ২০০ কিলোমিটার বেগে ‘ফণী’ ভারতের ওডিশা রাজ্যে আছড়ে পড়ে। গতকাল মধ্যরাতের পর তা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রবেশ করে। তখন এর গতিবেগ প্রায় অর্ধেকে আসে। সেখানে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর ঘূর্ণিঝড়ের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। এটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ।
সকাল দশটায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শামসুদ্দিন আহমদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল তা থেকে কিছুটা শঙ্কামুক্ত। তিনি আরো বলেন, ‘তবে আমরা মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছি। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ছয় নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং কক্সবাজারকে চার নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছি।’
ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা ধীরে ধীরে কেটে গেলেও আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষজন অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শেল্টার সেন্টারে আবহাওয়ার পুরোপুরি উন্নতি না হাওয়া পর্যন্ত মানুষজনকে থাকতে হবে। কারণ, একটি সামুদ্রিক ঝড় যখন কোনো অঞ্চলে আসে তখন সেটি সমুদ্রে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে রাখে। সেটি শান্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মানুষজন যাতে নিরাপদে বাড়িতে ফিরে যেতে পারেন, সেজন্য কিছুটা সময় আরো অপেক্ষা করতে হবে।’