‘ফালতু’-তে সংগঠিত হাজারো তরুণ

আপডেট: 01:51:49 06/09/2017



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : ‘ফালতু’। নামটি শুনলে সবারই অবজ্ঞা করার কথা। নাক সিটকানো এই নামেই একটি গ্রুপ সৃষ্টি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২০ হাজার তরুণ-তরুণীকে একত্রিত করেছেন মণিরামপুরের যুবক দেব বিশ্বাস। গড়ে তুলেছেন ‘ফালতু’ নামে একটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
তার ভাষায়, ‘নাম যাই হোক, কাজই বড়’। তিনি তা করেও দেখিয়েছেন।
দেব একজন ঔপন্যাসিক। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েই তিনি উপন্যাস লেখা শুরু করেন। ইতিমধ্যে একুশে বই মেলাসহ বিভিন্ন সময়ে তার বেশ কয়েকটি বই বেরিয়েছে। পাশাপাশি তিনি একজন প্রসাধন ব্যবসায়ী। মণিরামপুর বাজারের হাকোবা মোড়ে তার রয়েছে ‘দুবাই কসমেটিকস’ নামের একটি দোকান।
২০১৬ সালের মার্চের দিকে অনেকটা খেয়ালের বশেই তিনি ফেসবুকে ‘ফালতু’ নামের একটি গ্রুপ খোলেন। সাড়াও পান অনেক। গত দেড় বছরে তার গ্রুপের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজারে।
ফালতু গ্রুপের সদস্যরা বেশির ভাগই মণিরামপুরের হলেও এই গ্রুপে রয়েছেন খুলনা, নড়াইল ও যশোরের অনেক সদস্য। সদস্যদের বেশিরভাগই ছাত্র। আবার রয়েছে ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার তরুণ। ইতিমধ্যে সংগঠনটি নিজেদের অর্থায়নে উপজেলার শ্যামকুড়ে জলাবদ্ধদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে। আবার সদস্যরা রক্তও দিচ্ছেন মুমূর্ষু রোগীদের।
মঙ্গলবার ছিল সংগঠনটির ঈদ পুনর্মিলন ও সদস্যদের পরিচিতি সভা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মণিরামপুর উপজেলা চত্বরের বটতলায় তাদের পরিচিতি সভা হয়।
‘ফালতু’ গ্রুপের অ্যাডমিন দেবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘নামটা শুনে কারোই পছন্দ হবে না। তা জেনেও এই গ্রুপের এমন নাম দেওয়া হয়েছে। আমি চেয়েছি খারাপ নামের আড়ালে সমাজের মানুষের জন্য ভালো কিছু করে দেখাতে। দেখাতে চেয়েছি, ‘নামে নয়,কাজেই পরিচয়।’’
দেব জানান, তার গ্রুপে ২০ হাজার সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে সক্রিয় সদস্য আছেন প্রায় এক হাজার। সক্রিয়রাই অর্থ ও শ্রম দিয়ে সংগঠনটিকে সহযোগিতা করেন।
মঙ্গলবার পরিচিতি সভায় ১০০ কার্যকরী সদস্যের মধ্যে ৫০ জন হাজির ছিলেন।
দেব বলেন, ‘আমাদের সদস্যদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় চলছে। আজ গ্রুপের কার্যকরী এক সদস্য সুমন হোসেন সিজারের এক রোগীকে বিনামূল্যে রক্ত দিয়েছেন।’
তাছাড়া যেকোনো প্রয়োজনে সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষ এই গ্রুপের সদস্যদের পাশে পাবেন বলে আশাবাদী দেব।
মেহেদী হাসান নয়ন ও দীপ মণ্ডল সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং সজল ও জিয়াউর রক্তদানকারী সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
গ্রুপকে আরো শক্তিশালী ও সক্রিয় করতে আরো তরুণ প্রাণ এগিয়ে আসবেন বলে তারা আশাবাদী।

আরও পড়ুন