‘মহাদুর্নীতিবাজ’ বদলি, মিষ্টি বিতরণ

আপডেট: 01:20:08 07/09/2017



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খানকে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। এই খবর বুধবার বিকেলে ছড়িয়ে পড়লে সরকারি দপ্তরটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম মহাদুর্নীতিবাজ হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেছেন। তার স্থলে পদায়ন করা হয়েছে সওজ ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেনকে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খানকে হবিগঞ্জ জেলায় যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্তি হিসেবে গণ্য হবেন।’
নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে সেলিম আজাদ খান ঝিনাইদহে কর্মকালে টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা তছরুপ করেছেন বলে অভিযোগ। ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন সড়ক কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও অল্প দিনের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যায়। নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজসে ঠিকাদাররা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এ নিয়ে তোপের মুখে পড়েন নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম আজাদ খান।
সম্প্রতি ঝিনাইদহে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে গণশুনানির আয়োজন করে, সেখানে এই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগ জমা পড়ে। প্রায় সব সরকারি দপ্তরের কর্ণধাররা গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। ব্যতিক্রম ছিলেন সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী। বলা হয়, গণরোষে পড়ার আশঙ্কায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে হাজির হননি।
সওজ অফিস সূত্র জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিমের দুর্ব্যবহারে দপ্তরটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। সম্মান বাঁচাতে নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে ঝিনাইদহ ছাড়েন। ফলে লোকবলের অভাবে দপ্তরটির কাজকর্ম ব্যাহত হয়। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সওজের প্রধান প্রকৌশলীর অফিসকেও লিখিতভাবে জানান ঝিনাইদহের ২৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সূত্র জানায়, সেলিম আজাদ খান ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগে যোগ দেন। এই ১১ বছরে তিনি ১৬ জায়গায় বদলি হয়েছেন। অসামাজিক আচরণ, কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও চরম দুর্নীতির কারণে কোনো স্টেশনে তার কর্মকাল বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
বদলির সংবাদের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হলে সেলিম আজাদ খান বলেন, ‘আমি তো এখানে ঘরবাড়ি বেঁধে থাকতে আসিনি। ডিপার্টমেন্ট চেয়েছে তাই আমাকে অন্যত্র বদলি করেছে।’
তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, অভদ্র আচরণ প্রভৃতি অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি সেলিমের।

আরও পড়ুন