‘মাকে মেরে ফেলেছে বাবা’

আপডেট: 03:06:42 07/01/2019



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ‘মাকে বাবা প্রায়ই মারপিট করতো। কয়দিন আগে অনেক মেরেছিল। বাবা দুই দিন মাকে খেতেও দেয়নি। আমার খাবার চুরি করে মাকে খাওয়াতাম। আমার বাবা মাকে মেরে ফেলেছে।’ এই সব বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে আট বছরের শিশু সুরাইয়া খাতুন।
এই ঘটনা কালীগঞ্জ উপজেলার বড় ডাউটি গ্রামের।
অভিযোগ করা হচ্ছে, যৌতুকের দাবিতে শিশুটির মা শিউলি খাতুনকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর এর জন্য দায়ী শিউলির পাষণ্ড স্বামী আনিচুর রহমান।
শিউলি খাতুন একই উপজেলার দামোদরপুর গ্রামের মৃত সলেমান বিশ্বাসের মেয়ে। তার স্বামী আনিচুর রহমান ডাউটি গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে। সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিউলি মারা যান।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মৃত মায়ের মরদেহ আগলে অপলক বসে আছে অবুঝ সুরাইয়া। গত কয়েকদিন ধরে সে-ই মায়ের সঙ্গে ছিল হাসপাতালে।
নিহত শিউলির একমাত্র ভাই, স্বামী আর দুই সন্তান ছাড়া আপন বলতে কেউ জীবিত নেই।
ভাই শামিম হোসেন জানান, দশ বছর আগে আনিচুর রহমানের সঙ্গে তার বোন শিউলির বিয়ে দেওয়া হয়। তাদের সংসারে একটি দেড় বছরের ছেলে ও আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
‘বিয়ের পর থেকে জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য শিউলিকে মারপিট করে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতো আনিচুর। ছয় দিন আগে সে শিউলিকে প্রচণ্ড মারপিট করে। দুইদিন খেতে না দিয়ে আটকে রাখে। এরপর অসুস্থ অবস্থায় আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এখানে মারা যায় শিউলি,’ বলেন ভাই শামিম।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুলতান আহমেদ জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি ইউনুচ আলী বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। যত দ্রæত সম্ভব আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।’

আরও পড়ুন