‘যশোরে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে’

আপডেট: 10:05:57 04/12/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে সদর ও ঝিকরগাছা উপজেলায় ৯০০ একর জমিতে পৃথক দুটি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে।
এ লক্ষ্যে রোববার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রস্তাবিত এলাকার জমি পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী রোববার বিকেলে সার্কিট হাউস সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আর এ লক্ষ্যে সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে যশোরে দুটি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যশোর অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, যা গোটা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রামের পর তৃতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে যশোরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে সদর ও ঝিকরগাছায় দুটি অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে। ঝিকরগাছা উপজেলায় প্রস্তাবিত জোন গড়ে উঠবে শরীফপুর, কালিয়ানী, আমিনী, রামচন্দ্রপুর, মানিকালী ও কলাগাছি মৌজায় প্রায় ৪০০ একর জমিতে। আর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ধোপাখোলা মৌজায় প্রায় ৫০০ একর জমি আসবে আরেকটি জোনের অধীনে।
চেয়ারম্যান জানান, শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছী মৌজার প্রায় ২০৫ একর জমি পরিদর্শন করা হয়। সেখানে জমির পরিমাণ কম হওয়ায় অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা যাবে না।
তিনি জানান, এ প্রস্তাবিত জমির বিবরণ, নকশা, তফশিল ও সম্ভাব্য দাম উল্লেখ করে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী বরাবর পেশ করা হবে। চলতি মাসের মধ্যেই অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার অনুমোদন পাওয়া যাবে এবং প্রাথমিক কাজ শেষে আগামী দুই বছরের মধ্যে এ অর্থনৈতিক জোন দৃশ্যমান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পবন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির সাথে শিল্পের উন্নয়ন প্রয়োজন। শিল্প ও কৃষির ভারসাম্য রেখেই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে। শিল্পায়নের জন্য কিছু জমি প্রয়োজন। তাই স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী জমির সম্ভাব্য বাজার মূল্যের ওপর অতিরিক্ত শতকরা ২০০ ভাগ এবং স্থাপনা, ফসল ও বৃক্ষের ক্ষেত্রে বাজার মূল্যের উপর শতকরা ১০০ ভাগ ক্ষতিপূরণ প্রদান করেই প্রস্তাবিত এ জমি অধিগ্রহণ করা হবে। একইসাথে এ অঞ্চলের কর্মক্ষম ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থান করা হবে।’
তিনি শিল্প স্থাপনে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
এ মতবিনিময় সভায় মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন যশোর জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের উপসচিব মলয় চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হুসাইস শওকত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রেজায়ে রাব্বী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) দেবপ্রসাদ পাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মামুন উজ্জামান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, যশোরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার দাবি দীর্ঘদিনের। জনগণের এই দাবি আমলে নিয়ে যশোরে অর্থনৈতিক জোন করতে যশোর জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বরাবর পত্র দেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি সোমবার সরেজমিনে প্রস্তাবিত জোনের অবস্থান, জমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখতে আসেন।

আরও পড়ুন