‘শখের গরু’ সাড়ে পাঁচ লাখ

আপডেট: 05:34:30 09/08/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুরের তেঁতুলিয়া গ্রামের শিক্ষিত যুবক হারুনুর রশিদ (৩০)। মাদরাসা থেকে দাওরা হাদিস পাশ করে চাকরি না খুঁজে শুরু করেন ব্যবসা। পাশের উপজেলা অভয়নগরে ৯৫ বিঘা জমিজুড়ে ঘের ব্যবসা রয়েছে তার। পাশাপাশি গত ছয় বছর ধরে নিজের বসতবাড়িতে দুগ্ধখামার গড়ে তুলেছেন হারুন। আবার হজ মৌসুমে মোয়াল্লেমের কাজ করেন তিনি। এসব ব্যস্ততার কারণে এক যুবককে খামার দেখাশুনার ভার দিয়েছেন তিনি।
হারুনের খামারে গাভী রয়েছে ১৯টি। পাশাপাশি শখের বসে একটি ষাঁড় পুষছেন তিনি। শত ব্যবস্তার ফাঁকেও তিনি ষাঁড়টির দেখভাল করেন। কর্মী সাদ্দাম ষাঁড়টিকে ‘কবিরাজ’ বলে ডাকেন। আর হারুন বলেন ‘শখের গরু’। ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৫ মণ, উচ্চতা পাঁচ ফুটের বেশি। এবারের কুরবানির হাটে তিনি ষাঁড়টি বিক্রি করবেন।
হারুনুর রশিদের শখের গরুর দাম উঠেছে পাঁচ লাখ টাকা। তিনি সাড়ে পাঁচ লাখ হলে বিক্রি করবেন। সম্প্রতি তার ভাইপো বোরহান উদ্দিন একটি অনলাইন মার্কেট প্লেসে গরুটির ছবি ছেড়েছেন। ফলে সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে খরিদ্দাররা গরুটি কিনতে যোগাযোগ করছেন। আর একটি কোম্পানি গরুটির দাম বলেছেন পাঁচ লাখ টাকা।
হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ছয় বছর আগে বাড়িতে দুগ্ধখামার করেছি। প্রতিবছর দুই-চারটি গরু কুরবানিতে বিক্রি করার জন্য পুষি। খামারের ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কারো কোনো পরামর্শ নিইনি। নিজেই বাজার থেকে ওষুধ কিনে এনে খাওয়াই। প্রয়োজনে স্থানীয় পল্লী পশু চিকিৎসককে দেখাই।’
হারুন বলেন, ‘গত বছর কুরবানির সময় তিন লাখ ৭০ হাজার ও দুই লাখ ৮০ হাজার টাকায় দুটো গরু বিক্রি করেছি। এবার বাড়ির ছোট্ট একটা বাছুর পুষে বড় করেছি। ছয়মাস ধরে ওর পেছনে দিনে ৫০০ টাকা করে খরচ হচ্ছে। মাঝে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমার খামারে গরুটি দেখতে এসেছেন। তখন তারা ওজন করে দেখেছেন গরুটি ৩৫ মণ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ভাইপো সাদ্দাম গরুর ছবি তুলে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ছেড়েছে। তাই দেখে সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে লোকজন যোগাযোগ করছেন। আর কোকোলা ফুড কোম্পানি গরুর দাম পাঁচ লাখ টাকা বলেছেন। আমি সাড়ে পাঁচ লাখে বিক্রি করব।’
জানতে চাইলে মণিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবুজার সিদ্দিকী বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের জেলা কর্মকর্তা ভবতোষকান্তি সরকার নিজে গিয়ে হারুনের ষাঁড়টি দেখে এসেছেন। তিনি সঠিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। ষাঁড়টি আমাদের তত্ত্বাবধানে আছে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ নেই- হারুনুর রশিদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আবুজার সিদ্দিকী বলেন, ‘ওনার বক্তব্য সঠিক নয়।’