‘সাজানো মামলায়’ জেলে প্রেসক্লাব সভাপতি

আপডেট: 06:11:40 09/10/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল কবীরকে পুলিশ আজ মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে আদালতে পাঠিয়েছে। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, ‘পূজা সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং পুলিশের প্রতি অশোভন আচরণ ও পুলিশকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে’ মর্মে তাকে ৮ অক্টোবর দুপুরে বাঘারপাড়া থানা কম্পাউন্ড থেকে আটক করা হয়।
তবে সাংবাদিকনেতাদের অভিমত, ইকবালের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও অবাস্তব মামলা করেছে পুলিশ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আটক বাঘারপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল কবীরের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানার এসআই লিটন কুমার মণ্ডল বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর-৬, তারিখ ০৮.১০.১৮; ধারা ৩৫৩/৩৩২/৩৩৩/২৯৫-ক/৫০৬ পিসি।
আজ দুপুরে তাকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিকের  আদালতে হাজির করা হয়। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আগামীকাল (১০ অক্টোবর) তার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহিনুর আলম শাহিন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুলিশ তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে। আমরা কাল শুনানিতে অংশ নেব।’
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর দুপুরে বাঘারপাড়া থানা ক্যাম্পাসে শারদীয়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক একটি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাঘারপাড়ার ৯০টি পূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শুরুর দশ মিনিট আগে প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল কবীরকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি সভাস্থলে পৌঁছে মাত্র দশ মিনিট আগে কেনো তাকে সভার কথা বলা হলো- এই কথাটি তার এক পরিচিত সাব-ইনসপেক্টরের কাছে খিস্তিসহ জানতে চান। তার সেই কথাটি সেখানে উপস্থিত অনেকেই শুনতে পান। সেখানে উপস্থিত বাঘারপাড়া আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা তার গ্রেফতার দাবিতে মিছিল শুরু করেন। সভাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী সাংবাদিক ইকবাল কবীরকে তখনই আটকের নির্দেশ দেন। এরপরই তাকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাঘারপাড়া থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, সভা চলাকালে প্রেসক্লাব সভাপতি ঘটনাস্থলে এসে খিস্তিখেউড় করতে থাকেন। তাকে নিবৃত করতে কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল সেখানে গেলে তিনি তাদের প্রতি অশোভন আচরণ এবং তিন পুলিশ সদস্যের গায়ের পোশাক ছিড়ে ফেলেন। পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়ায় তাকে তখনই আটক করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘আমি এই থানায় নতুন এসেছি। প্রেসক্লাব সভাপতি কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো গ্রুপের নেতাকর্মীদের চিনি না।  নেতাদের কারো প্ররোচনায় তাকে আটক করা হয়নি। থানা ক্যাম্পাসে পুলিশের প্রতি অশোভন আচরণ এবং সভা সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করায় পূজা কমিটির নেতা-কর্মীরা সেইসময় মিছিল বের করে। সাংবাদিকনেতা হিসেবে যেন তাকে কোনো ছাড় দেওয়া না হয়- সেই দাবি করে মিছিলকারীরা।’
এদিকে, ইকবাল কবীর সংক্রান্ত বিষয়টি সাংবাদিকরা মীমাংসা করার উদ্যোগ নেন। যশোরের পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখাও করেন তারা। কিন্তু সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, ‘সাংবাদিক ইকবালের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। তার কৃতকর্মের ভিত্তিতে মামলা হলে আমাদের কিছুই বলার ছিল না।’
যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হকের কাছে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন সাজানো মামলা প্রত্যাশা করেননি বলে অভিমত ব্যক্ত করেন জাহিদ হাসান টুকুন।

আরও পড়ুন