ভারপ্রাপ্তদের ভার ঝিকরগাছা শার্শার প্রাথমিক শিক্ষায়

আপডেট: 01:51:04 06/11/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : ভারপ্রাপ্তদের ভারে নুয়ে পড়েছে যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা। জোড়াতালি দিয়ে চলছে পাঠদান। নেমে গেছে শিক্ষার মান।
যশোরের এ দুটি উপজেলায় ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। আর সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২৪টি বিদ্যালয়ে। এ কারণে লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।
ঝিকরগাছা উপজেলায় ৩২টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ১৪টি সহকারী শিক্ষকের, শার্শা উপজেলায় ৩০টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দশটি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষকরা অবসরে যাওয়ায় এই সব প্রতিষ্ঠানপ্রধানের পদ শূন্য হয়। এখন পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। এ অবস্থায় জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে চলছে পাঠদান। তার ওপর দাপ্তরিক কার্যক্রমে ভারপ্রাপ্তরা শিক্ষা অফিসসহ নানা দপ্তরে ব্যস্ত থাকায় দিনদিন লেখাপড়ার মান পড়ে যাচ্ছে। এর ফলে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। আবার অনেকেই বিপিএড করছেন। এ কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে খুবই সমস্যা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইজ্জত আলী বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভা, প্রতিবেদন তৈরি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। সহকারী শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ করেন সহকারী শিক্ষকরা। এর ফলে সঠিকভাবে পাঠদান কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও শিক্ষক সঙ্কটের কারণে তাদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়।’
এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপসকুমার অধিকারী বলেন, ‘সকল বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রধান শিক্ষক নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সংকট। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বিচারাধীন থাকায় পদোন্নতি আটকে আছে।’
তিনি বলেন, ‘পিএসসির মাধ্যমে যশোর জেলায় আটজন প্রধান শিক্ষক দেওয়া হলেও কেউ যোগদান করেননি। শিগগিরই শিক্ষক সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন